kalerkantho


যবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের আবদার

প্রভাষক হলেই গুনতে হবে পাঁচ লাখ

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ নিয়ে দেনদরবারের কারণে নির্ধারিত সময় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার পরীক্ষা শুরু হয় সাড়ে ১১টায়।

যবিপ্রবি সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলার আসামি ছাত্রলীগ সভাপতি (ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্সের ছাত্র) সুব্রত বিশ্বাস আসেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন কর্মী পাঁচতলার চ্যান্সেলরের সম্মেলনকক্ষে এসে ৩৬ জন প্রার্থীকে নিচে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় পরীক্ষা নিতে আসা রাষ্ট্রপতির তিনজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় তাঁরা হতবাক হন। প্রার্থীদের নিচে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে চাকরি হলে প্রত্যেক প্রার্থীকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে অঙ্গীকার নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রার্থী বলেন, ‘ওরা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। চাকরি হলে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী বলেন, ‘সুব্রতর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ছেলেরা প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলছে। কী কথা হয়েছে তা জানি না। ’

যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘প্রথমে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ঝামেলা হওয়ার খবর পেয়ে যাই। এখন বিষয়টি

মিটে গেছে। আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের বিভাগ থেকে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হোক। ’ টাকা দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো টাকা চাইনি। ছাত্রলীগের কেউ যদি টাকা দাবি করে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। ’


মন্তব্য