kalerkantho


শ্রীনগরে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

সিরাজদিখানে সংঘর্ষে আহত ৯

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী ওই যুবককে ডাকাত বললেও তার পরিবার বলছে তাকে হত্য করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সংঘবদ্ধ ডাকতদল উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের নতুন গ্রামের ইউনুছ শরীফের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় ইউনুছ শরিফের ছেলে রাজীব বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা ধাওয়া করে লাক্কু (৩৫) নামের এক ডাকাতকে আটক করে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সকালে শ্রীনগর থানার পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় ওই ডাকাতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাক্কু উপজেলার নতুন গ্রামের জয়নাল সরকারের ছেলে।

অন্যদিকে লাক্কুর মা খোদেজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে একই এলাকার মৃত জয়নাল বেপারির ছেলে আশ্রাফ, ইউছুবসহ কয়েকজন কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে লাক্কুকে দেখতে গিয়ে দেখি, রাতে যারা ডেকে নিয়ে গিয়েছিল তারাই লাক্কুকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করছে। অপরাধ ফাঁস হয়ে যাবে, এই ধারণায় আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী আশ্রাফ ও তার লোকজন হত্যা করেছে। ’

শ্রীনগর থানার ওসি মো. সাহিদুর রহমান জানান, চুরি করার সময় জনতা লাক্কুকে আটক করে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে সিরাজদিখানে গতকাল শনিবার মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর হয় ১০টি বাড়ি।

গুরুতর আহত কুমারখালী গ্রামের চান মিয়ার (মৃত) দুই ছেলে আকবর আলী (৬৫) ও নেকবর আলীকে (৬০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত ইব্রাহিমের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫), ইসমাইলের ছেলে দিদার হোসেন (৩০), আলী আকবরের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৫০), ইয়াদ আলীর ছেলে হৃদয় (১৬) স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সরকারি খালে মাছ ধরার জন্য বাঁধ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এ বাঁধ দেওয়ার জন্য জমির পাড় কেটে মাটি নেওয়ায় কুমারখালী গ্রামের লোকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায় দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দেশি অস্ত্র (দা-টেঁটা-লাঠি) নিয়ে গ্রামভিত্তিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে কয়েকজন চিকিত্সা নিয়েছে। দুজন ভর্তি রয়েছে। ’

সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। ’


মন্তব্য