kalerkantho


গোপালগঞ্জ

বিবস্ত্রকারীদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে বিবস্ত্রকারী বখাটেদের খুঁজে পাচ্ছে না গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার পুলিশ। ঘটনার পর মেয়েটি অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পর সে আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার বিকেলে মেয়ের বাবা তিনজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে। সংবাদটি কালের কণ্ঠ অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর গোপালগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো শ্রীদাম মণ্ডলের ছেলে সম্রাট মণ্ডল (২৩), বঙ্কিম বিশ্বাসের ছেলে সজল বিশ্বাস (২২) ও নির্মল বসুর ছেলে মিঠু বসু (২০)। অভিযুক্তদের খুঁজে না পেয়ে তাদের তিন আত্মীয়কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তাঁরা হলেন সম্রাটের মা আশা মণ্ডল এবং সজলের মা রেখা বিশ্বাস ও বোন রমা বিশ্বাস।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মেয়েটি বলে, বাড়ির পাশের বখাটে সম্রাট বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত।

অনৈতিক প্রস্তাব দিত। ভয়ে সে বাড়ি থেকে একা বের হতো না। গত রবিবার রাতে মেয়েটি বাথরুম সেরে ঘরে ফেরার সময় সম্রাট, তার সহযোগী সজল ও মিঠু আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিও করে। সম্মান নষ্টের ভয়ে সে পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের মধ্যে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

মেয়ের মা বলেন, ‘ঘটনা ফাঁস করলে আমাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় বখাটেরা। তাই ভয়ে প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাইনি। ’

মেয়ের স্কুল শিক্ষক বাবা বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না। আমি বিচার চাই। ’

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘কীটনাশক পান করে মেয়েটি গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল, তাই তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে আবার কোটালীপাড়া হাসপাতালে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে তাকে রিলিজ দিতে পারব। ’

কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল) মো. আমীনুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ’


মন্তব্য