kalerkantho


ভোলায় খানকা শরিফে হামলা, অগ্নিসংযোগ

ভোলা প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভোলায় খানকা শরিফে হামলা, অগ্নিসংযোগ

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মিয়ারহাটে হাক্কানি খানকা শরিফে ভাঙচুর, লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির নামে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ১৯৯৮ সালে মিয়ারহাটে হাক্কানী খানকার কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শরিফ থেকে কয়েক শ নারী-পুরুষ এসে অবস্থান করে। তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে অবিলম্বে খানকা নির্মূলের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয় ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। একই দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে খানকা ঘেরাও করে। সন্ধ্যার পর উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোক হামলা, ভাঙচুর, লুট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দৌলতখান থানার এসআই রফিক, আলমগীর, কনস্টেবল মেহেদী ও সাংবাদিক শরিফসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ বিষয়ে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি ভোলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘খানকা নির্মূলের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি। সমাবেশ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল মোবাইল ফোনে হাক্কানি মিশন বন্ধ করার ঘোষণা দিলে আমরা সমাবেশ শেষ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুর আলম খান বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের একটি চক্র খানকায় এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ’ হাক্কানি খানকা শরিফের পরিচালক জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘এখানে কোনো ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড হয় না। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির লোকজন হামলা চালিয়ে গাছ-গাছালি ভেঙেছে। কলাবাগান ভেঙে ফেলেছে। পুকুরের ভাসমান ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। খামারের হাঁস ও ডিম লুট করে নিয়ে গেছে। সব মিলে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ’

দৌলতখান থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, ‘ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির লোকজন তাদের কর্মসূচি শেষ করার পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন হামলা করেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় দেড় হাজার মানুষের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে। আহত এসআই রফিক এ মামলা করেন। ’

মুকসুদপুরে বাড়ি ভাঙচুর, আহত ১৫

এদিকে গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মুন্সী ও শেখ বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গোবিন্দপুর গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। মুকসুদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাফর হোসেন জানান, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নফর শেখের সঙ্গে ফরিদ মুন্সির এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আগেও বেশ কয়েকবার মারামারি ঘটনা ঘটে। চার দিন আগে নফর শেখের লোকজন ফরিদ মুন্সী ও তার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর জের ধরে ফরিদ মুন্সির লোকজন শনিবার সকালে নফর শেখের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা কমপক্ষে ১০টি বাড়ি ভাঙচুর করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য