kalerkantho


শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

সনদ নিয়ে সন্দেহ পদোন্নতির চেষ্টা

আব্দুল্লাহ আল মনসুর, শাবিপ্রবি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক সহযোগী অধ্যাপকের সনদ জাল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এদিকে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক হচ্ছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরী। তিনি ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই বিভাগে কর্মরত। এর আগে তিনি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন প্রভাষক ছিলেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপকে পদোন্নতি পেতে পিএইচডিসহ শিক্ষকতায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন চাকরি থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা যায়। খণ্ডকালীন চাকরির অভিজ্ঞতা গ্রহণ করা হয় না।

নীতিমালা পূর্ণ করার জন্য ওই শিক্ষক সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চাকরির অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত সনদ দাখিল করেন। তাঁর দাখিল করা সনদ অনুসারে, তিনি ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্ণকালীন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর দাখিল করা সনদের মধ্যে রয়েছে বেতন নথি, নিয়োগপত্র ও তৎকালীন রেজিস্ট্রারের প্রত্যয়নপত্র।

শাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইউনুছের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান রেজিস্ট্রার নসরত আফজা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত অর্থ কর্মকর্তা সুব্রত আচার্য স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘ওই শিক্ষক খণ্ডকালীন হিসেবে ২০০২-২০০৫ সালে সম্মানী পেয়েছেন। ’

এদিকে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য ওই শিক্ষক ১৪ জানুয়ারি ২০০৩ সালে আবেদন করেছেন। কিন্তু তাঁর নিয়োগপত্র ইস্যুর তারিখে দেখা যায় ২৫ ডিসেম্বর ২০০২। আবেদনের আগে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে নিয়োগপত্র দিল এবং তা সরকারি ছুটির দিনে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

এ নিয়ে আলোচনা হলে শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক মাজহারুল হাসান মজুমদার গত বছরের ১৩ নভেম্বর রেজিস্ট্রার বরাবর তদন্তের আহ্বান জানান। কিন্তু তদন্ত না করে পদোন্নতি বোর্ড ডাকা হয়। ৭ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা ডেকে তদন্তের আগ পর্যন্ত পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখার আহ্বান জানায়। বোর্ড স্থগিত করা হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। আগামী সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত সনদ দিয়ে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে।

তা ছাড়া ২০০৬ সালে শাবিপ্রবিতে ওই শিক্ষকের প্রভাষক পদে নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, তিনি তথ্য গোপন করে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনিসহ পাঁচ শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে ২০০৬ সালে তৎকালীন উপাচার্য মোসলেহ উদ্দীনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।

শিক্ষক সমিতির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম জানান, সম্প্রতি মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরীর হাইকোর্টে দাখিল করা বিভিন্ন দলিল থেকে জানা যায়, তিনি নিউপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডিয়া ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ‘বি’ গ্রেড পেয়ে স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাজ্য ক্যাম্পাস থেকে ‘বি-প্লাস’ পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কিন্তু তাঁর সনদে গ্রেড উল্লেখ নেই কিংবা তাঁর সমমানের কোনো সার্টিফিকেটও দাখিল করা হয়নি। এমনকি একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সনদে লোগোর ভিন্নতা রয়েছে।

এদিকে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করতে একটি কমিটি করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত ১৫ জানুয়ারি গঠিত কমিটিতে মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম শাহ নওয়াজ আলীকে আহ্বায়ক করে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কমিশনের সচিব ড. মো. খালেদ, কমিশনের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফেরদৌস জামান, একই বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক রোকসানা লায়লা। মঞ্জুরি কমিশনের এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অফিস আদেশে মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবদেন পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

শাবিপ্রবি ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি সব সনদপত্র জমা দিয়েছি। সনদে ত্রুটি থাকলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে। ’

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়া জানান, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বোর্ড করা হয়েছিল। সেখানে ইউজিসির চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। ’

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. এম শাহ নওয়াজ আলীকে গতকাল পৌনে ৪টায় কালের কণ্ঠ অফিস থেকে তিনবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


মন্তব্য