kalerkantho


যৌবন ফিরছে ভোলা খালের

শিমুল চৌধুরী, ভোলা   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যৌবন ফিরছে ভোলা খালের

দখলদারদের দৌরাত্ম্যে নদী থেকে খালের পর এখন যেন ড্রেনে পরিণত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ভোলা খাল। খাল দূষণ ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

একসময় বেতুয়া নদী হিসেবে পরিচিত ভোলা খালের ভেতর দিয়ে বড় বড় পালতোলা নৌকা চলত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই সব নৌকায় করে তাদের মালামাল আনা-নেওয়া করত। জেলেরাও মনের আনন্দে মাছ ধরত সেই নদীতে। আজ আর পালতোলা নৌকা নেই। ব্যবসায়ীরাও এখন আর নৌকায় করে মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারছে না। নেই জেলেদের মাছ ধরার মহোৎসবও।

দখলদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে নদী থেকে খালের পর এখন যেন ড্রেনে পরিণত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ভোলা খাল। খালের দুই পার ভরাট করে যে যেভাবে পারছে বসতঘর, দোকানপাট ও ঘরবাড়ি গড়ে তুলছে। প্রায় প্রতিদিনই খালের কোনো না কোনো অংশ দখল হচ্ছে। ভোলা সদর রোডের বিকল্প সড়ক হিসেবে এ খালের পার বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করেছে স্থানীয় পৌরসভা। খালের ওপর দিয়েই কাশিস্বর ব্রিজ থেকে বাংলা স্কুল ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ ফুট প্রস্থ বিকল্প সড়কটির স্থায়িত্বের জন্য আবার নির্মাণ করা হয়েছে একটি গাইডওয়াল।

এ ছাড়া ভোলা খালের ওপর নতুন করে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করায় বর্তমানে খালের পানির গতিপথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। অবিলম্বে ভোলা খালের দুই পার দখলমুক্ত করে খালটি পুনঃখননের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। এর আগে খালটি দূষণ ও দখলমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ভোলা খাল দূষণ ও দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সামাজিক-পরিবেশ আন্দোলনের নেতা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, দুই শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ভোলা খাল আর খাল নেই। এটি এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ভোলা খাল দখলমুক্ত করতে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও কোনো কাজ হয়নি। খাল দখলের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আজও এটি দখলমুক্ত করতে পারেনি। প্রশাসন একাধিকবার খাল পারের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করলেও আজ পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ করতে পারেনি। দখলদাররা এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসনের তৈরি করা তালিকার ফাইলও অফিস থেকে গায়েব করে ফেলে। এ ব্যাপারে বেলা উচ্চ আদালতে মামলা করেছে বলে তিনি জানান।

খালপারে বসবাসরত ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের বলেন, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এ খালের প্রস্থ ছিল ২০০ ফুট। বর্তমানে তা মাত্র ১০০ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় ভোলা শহরের বর্জ্য নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে।

অবিলম্বে ভোলার প্রাণ নামে খ্যাত দুই শ বছরের পুরনো ভোলা খাল পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এসএম বাহাউদ্দিন।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোলা খালের সীমানা নির্ধারণের পর খালপারে দখলদারদের চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হবে। এর পরই তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

ভোলা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু জানান, ভোলা খাল খননের জন্য দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বেশ কিছু উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে খাল পুনঃখনন ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

ভোলা খালকে দখলমুক্ত করা হবে উল্লেখ করে ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান জানান, খাল পুনঃখননের জন্য কাজ করা হবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহা. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ভোলা খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা পৌরসভাকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। ’

ভোলা সদর আসনের এমপি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও ভোলা খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। সম্প্রতি জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের দায়িত্বভার গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

 


মন্তব্য