kalerkantho


তরুণীর চেতনা কেড়ে ধর্ষণ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ীর এক তরুণী শ্রমিকের (১৮) চেতনা কেড়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিব রায়ের কান্দি গ্রামের রহিম খানের (মৃত) ছেলে মোক্তার খানকে (৪৩)।

গতকাল সকালে রাজবাড়ী থানায় অবস্থান করা ওই নারী বলেন, তিন বছর আগে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর সংসারের অভাবে তিনি ফরিদপুরের একটি পাটকলে শ্রমিক হিসেবে চাকরি নেন। রাজবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মায়ের সংসার খরচ দেওয়া শুরু করেন। ফরিদপুরে এক যুবককে তিনি বিয়েও করেন। এ সংসার তাঁর টেকেনি। এক বছর আগে তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় মোক্তার খানের। মোক্তার তাঁকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রলোভন দেখায় ও কুপ্রস্তাব দেয়। সম্প্রতি বিষয়টি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায়।

বাধ্য হয়ে দেড় মাস আগে তিনি রাজবাড়ীতে ফিরে আসেন। ওঠেন জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামের এক সাবেক মেম্বারের বাড়ি। ওই বাড়ির পাশের রুমে ভাড়া থাকেন দুর্গাপুর গ্রামের রায়হান উদ্দিন বিশ্বাস (২৬)। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে একটি প্রাইভেট কার যোগে তাঁর বাসায় আসে মোক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন (৩৫)। তারা সে সময় দুটি মিষ্টির প্যাকেটে খিচুরি, বেশ কয়েক বোতল কোকসহ কিছু জামাকাপড় নিয়ে আসে। পাশের কক্ষের রায়হানসহ তাঁরা চারজনে ওই সব খাবার খান। খাওয়া শেষে তাঁরা কোক পান করেন। এর একপর্যায়ে হঠাৎ করে রায়হান অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে মোক্তার ও সঙ্গে আসা ব্যক্তি তাঁর কক্ষে রেখে আসে। এ সময় তরুণীও অচেতন হতে শুরু করেন। এ সময় মোক্তার তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করে। পরদিন ভোরে স্থানীয় বাদল চৌকিদারসহ অন্য ব্যক্তিরা অচেতন অবস্থায় রায়হান ও মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিয়ার রহমান বলেন, ‘রাজবাড়ী হাসপাতালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে লম্পট মোক্তার আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ’


মন্তব্য