kalerkantho


বালুতে মজেছে যুবলীগকর্মীরা

সড়ক মন্ত্রীর নির্দেশও মানা হচ্ছে না, মেঘনা সেতুর সর্বনাশ

আসাদুজ্জামান নুর, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বালুতে মজেছে যুবলীগকর্মীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) জায়গা দখল করে মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুবলীগকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) জায়গা দখল করে মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা চালাচ্ছে স্থানীয় যুবলীগকর্মীরা। এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ জায়গায় অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিলেও স্থানীয় প্রশাসন তা পালনে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের ধাক্কায় মেঘনা সেতুর পিলারের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধের জন্য গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা নামধারী স্থানীয় সাহাবুদ্দিন প্রধান, তাঁর ভাতিজা আরিফ প্রধান, মহসিন প্রধান, বিল্লাল প্রধান, আলমগীর হোসেন, মাহবুব হোসেনসহ একটি সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, সওজের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও সরকারি দলের নেতারা এ থেকে টাকার ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা দখল করে সেতুর পূর্ব পাশে বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেতুটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় যুবলীগ নেতারা সিন্ডিকেট করে মেঘনা নদী দখল করে বালু ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক চাপে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েক দিন পর আবারও বালু ব্যবসা শুরু হয়।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেঘনা সেতু পরিদর্শনে এসে সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তখন দুজন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন তিনি। এ সময় পুলিশ ১২ জন বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিল। তখন কিছুদিন বন্ধ থাকলেও অবৈধ বালু ব্যবসা এখন আগের মতোই চলছে।

অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যুবলীগ নামধারী নেতা সাহাবুদ্দিন প্রধানসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, ‘বিএনপির আমলে বিএনপির নেতারা এই খালি জায়গায় বালু ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা একটি সিন্ডিকেট করে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাদের ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। ’

সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্নু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন প্রধান নামে আমাদের যুবলীগের কমিটিতে কেউ নেই। যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, মেঘনা সেতুর নিচে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ফের বালু ব্যবসা শুরু করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভিটিকান্দী) জাকির আলম বলেন, ‘সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করার জন্য কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি মামলাও করা হয়েছে। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা আমাদের কোনো কথাই মানছেন না। শিগগিরই তাঁদের বিরুদ্ধে আবারও মামলা করা হবে। ’

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই সেতুটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ’

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, মেঘনা সেতুর পাশে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা কালের কণ্ঠকে জানান, মেঘনা সেতুর নিচে যারা অবৈধ বালু ব্যবসা করছিল, ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ব্যবসা আবারও শুরু হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


মন্তব্য