kalerkantho


রূপগঞ্জে অপহরণের পর ছাত্র হত্যা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রূপগঞ্জে অপহরণের

পর ছাত্র হত্যা

তাজুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্কুল ছাত্র তাজুল ইসলামকে (৭) অপহরণের পর গলা টিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুজনের তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার বিল থেকে তাজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানায় পুলিশ।

তাজুল ইসলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বিরকাঠালিয়া এলাকার আব্দুল আউয়াল মিয়ার ছেলে ও রূপগঞ্জের ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। রাজমিস্ত্রি আব্দুল আউয়াল পরিবার নিয়ে রূপগঞ্জের ভুলতা টেলাপাড়ার মোশারফ মিয়ার বাড়িতে বাস করেন। গ্রেপ্তার সুজন (২৫) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের মাতারপুর এলাকার আব্দুল হকের ছেলে। সে রূপগঞ্জের পুরান বাজার এলাকায় বসবাস করে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শহিদুল আলম জানান, তাজুল ইসলামের বড় ভাই মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় একটি কাপড়ের ছাপা কারখানায় কাজ করত সুজন। সেই সুবাদে সুজন প্রায়ই মাজহারুলের বাড়িতে যাওয়া-আসা করায় পরিবারটির সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গেম খেলার জন্য তাজুলকে প্রায়ই তার মোবাইল ফোন দিত সুজন। গত শুক্রবার সকালে নিখোঁজ হয় তাজুল।

পরে জানা যায়, সুজন ও তার লোকজন তাজুলকে অপহরণ করেছে। তাজুলের বাবা আব্দুল আউয়ালের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ না দিলে তাজুলকে হত্যার হুমকিও দেয়। গত রবিবার রাতে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান আউয়াল। অপহরণের বিষয়টি থানায় জানালে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশসহ থানা-পুলিশ সুজনকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে।

পরিদর্শক শহিদুল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুলকে অপহরণের পর গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুজন। সে জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে সুজনসহ একদল লোক তাজুলকে অপহরণ করে। মুক্তিপণের বাকি ৪৫ হাজার টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। এ হত্যায় মামুন নামের আরেকজন জড়িত। তাজুলের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাজুলের বাবা আব্দুল আউয়াল রূপগঞ্জ একটি হত্যা মামলা করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাজুলের মামা মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, তাজুল নিখোঁজের পরের দিনও সুজন ফেরদৌসের বোনের বাড়িতে এসে তাজুলকে খুঁজে বের করে এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

চাঁদা না পেয়ে মারধর, চারজন আহত

এদিকে রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় একই পরিবারের চারজনকে মারধর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার পিতলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত মনির হোসেন জানান, বেশ কিছু দিন ধরে একই এলাকার এমারত মিয়া তার কাছে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। ওই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এমারত, রহমান, মোবারক, সামসুল হক ও সোহরাব গতকাল বুধবার সকালে মনিরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় এগিয়ে এলে মনি, হুমায়ুন ও আবেদ আলীকেও মারধর করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এমারত হোসেন মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘মনিরের একখণ্ড জমি বেচা-কেনায় সহযোগিতা করেছি। তখন আমাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ’ এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ’


মন্তব্য