kalerkantho


নাটোরে কিডনি চুরি

চিকিৎসকসহ চারজনের নামে আদালতে মামলা

নাটোর প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাটোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর শরীর থেকে কিডনি চুরির অভিযোগে চিকিৎসক, হাসপাতালের পরিচালকসহ চারজনের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরো সাত-আটজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নাটোর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী আসমা বেগমের স্বামী ফজলু বিশ্বাস। বিচারক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মামলার বাদী ও ভিকটিমকে আগামী সোমবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. এম এ হান্নান, জনসেবা হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. আমিরুল ইসলাম, পরিচালক রফিকুল ইসলাম, হাসপাতালের অজ্ঞানকারী ডা. এসবি হালদার।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, সিংড়ার ছোট চৌগ্রাম গ্রামের ফজলু বিশ্বাসের স্ত্রী আসমা বেগম পেটে ব্যথা অনুভব করলে ২০১৫ সালের ১০ মে শহরের মাদরাসা মোড়ের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর স্বজনরা। হাসপাতালের ডা. আশিকুর রহমান তাঁর আলট্রাসনোগ্রাফি করে দুটি কিডনি স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছে মর্মে রিপোর্ট দেন। পরে একই বছরের ৩০ মে আবারও রাজশাহীর লক্ষ্মীপুরে গ্রিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাঁর কিডনি স্বাভাবিক ও সুস্থ থাকার রিপোর্ট দেয়। কিছুদিন পর আসমা অসুস্থ বোধ করলে জনসেবা হাসপাতালের ডা. এম এ হান্নান তাঁকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই বছরের ১২ জুন রাতে তাঁর পিত্তথলিতে পাথর অপারেশন করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এম এ হান্নান।

মামলায় আরো বলা হয়, অপারেশনের পর তিনি বরং দিন দিন আরো অসুস্থ হতে থাকেন।

পরে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আবারও জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. এ বি সিদ্দিক আলট্রাসনোগ্রাফি করে তার ডান কিডনিটি না থাকার রিপোর্ট দেন। পরে শহরের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কেয়ার হাসপাতাল, সর্বশেষ বগুড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও একই ফল পাওয়া যায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ডাক্তারসহ অন্যদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বকুল হোসেন জানান, আদালত মামলাটি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যে কারণে আগামী সোমবার ভিকটিম ও মামলার বাদীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।


মন্তব্য