kalerkantho


কালীগঞ্জ

পড়েছে একটা পরীক্ষা অন্যটা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত তানজিনা বেগম। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কখনো ফেল করেনি। বরাবরই প্রতিটি ক্লাসে ছিল তার এক রোল। আর পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে চলতি দাখিল পরীক্ষায় সে অংশ নিয়েছে। আশা ছিল, এবার সে ভালো ফল করবে। অথচ পরীক্ষার মাঝামাঝি এসে তার সেই স্বপ্ন যেন উবে গেছে। কারণ নবম শ্রেণি থেকে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে লেখাপড়া করে এর বদলে তাকে দিতে হবে ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের পরীক্ষা। যা সে শুনেছে গত মঙ্গলবার।

সে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মনিরাবাদ সুফিয়া একরামিয়া আলিম মাদরাসার মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গতকাল বুধবার কথা হলে তানজিনা বলে, ‘খবরটি শোনার পর থেকে দুই রাত ধরে ঘুমাতে পারছি না। ভালো ফলাফল করার স্বপ্ন শেষ করে দিলেন আমার শিক্ষকরাই।

এ কান্না শুধুই তার নয়। তার মতো উপজেলার ছয়টি মাদরাসার প্রায় পৌনে ২০০ পরীক্ষার্থীরও। তাদের আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আবশ্যিক এ বিষয়ে ভালো ফলাফল তো দূরের কথা, পাস করা নিয়ে চিন্তিত তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন মাদরাসায় কম্পিউটার-ল্যাপটপ থাকলেও রেজিস্ট্রেশন-ফরম পূরণের মতো অনলাইননির্ভর কাজগুলো করা হয় দোকানে গিয়ে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের একদিকে যেমন রয়েছে অদক্ষতা অন্যদিকে দায়িত্বহীনতা। আর দোকানে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে মূলত বিষয় পরিবর্তন হয়ে গেছে।

 

মনিরাবাদ সুফিয়া একরামিয়া আলিম মাদরাসার ছাত্র ফাহিম হোসেন বলে, ‘গত মঙ্গলবার মাদরাসায় ডেকে এনে বিষয় পরিবর্তনের ঘটনা জানিয়ে আমাদের হাতে বই ধরিয়ে দিয়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায়। ’

শাখাতি জব্বারিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, ‘বাইরে থেকে অনলাইনের কাজ করতে গিয়ে এমন ভুল ঘটেছে। ’

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, ‘এটি মাদরাসাগুলোর ভুলের কারণেই হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। ’


মন্তব্য