kalerkantho


স্বরূপকাঠিতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

দুজন গ্রেপ্তার, মামলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মাইনুল তালুকদার ও সিদুল তালুকদার ওরফে প্রিন্স নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তা ছাড়া এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে লজ্জা ও ভয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন সেই লাঞ্ছিত শিক্ষক বিধান চন্দ্র, কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একে তো অনৈতিকতার অপবাদ, তার ওপর উপস্থিত সবার সামনে উলঙ্গ করে অত্যাচারের ঘটনায় তিনি খুবই অপমান বোধ করছেন। তার ওপর রয়েছে হুমকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, সমুদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ করিম সবুর হচ্ছেন সন্ত্রাসী নয়ন গাজীর আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। নয়ন একাধিক মামলার আসামি এবং নানা রকম অস্ত্র বহনকারী। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় সে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ করিম সবুর বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ওই এলাকার ইউপি সদস্য বিউটি মিস্ত্রিকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানার জন্য বিউটি মিস্ত্রিকে ফোন দিলে অন্য একজন তা রিসিভ করে জানান, বিউটি মিস্ত্রি বাড়িতে নেই। তবে এ বিষয়ে নয়ন গাজী দাবি করেন, ‘ওই শিক্ষক লম্পট। আগেও তিনি কয়েকটি মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছেন। তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। ওই দিন ওখানে অনেকেই ওই শিক্ষককে মেরেছে। এখন আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ’ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে স্বরূপকাঠি থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজে একজন শিক্ষকের সন্তান। বিষয়টি নিয়ে আমরাও তত্পর আছি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও নয়ন গাজীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলে সন্ত্রাসী নয়ন গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী শিক্ষক বিধানকে স্কুলের পাশেই মারধর করে বিবস্ত্র করে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁকে পাশের মন্দিরে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৌলভী খলিলুর রহমান সন্ত্রাসী নয়নের পক্ষ থেকে লেখা একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর দিয়ে বিধানকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।


মন্তব্য