kalerkantho


কুড়িখাই মেলা

মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর কুড়িখাই গ্রামের প্রাচীন মেলাটি এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শীতকালীন সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে সমাদৃত। কথিত আছে, ৪০ গ্রামের জামাইরা এ মেলা থেকে মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। এ কারণে মেলার সময় আশপাশের উপজেলায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

ফকিরি ও দেহতাত্ত্বিক গানের মধ্য দিয়ে গত সোমবার শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক এ মেলা। প্রথম দিনই প্রায় কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে মেলা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সপ্তাহব্যাপী চলার কথা থাকলেও মেলা চলবে দুই সপ্তাহ।

জনশ্রুতি আছে, ১২ আউলিয়ার একজন শাহ শামসুদ্দিন বুখারী (রহ.) ওরস উপলক্ষে এ মেলার গোড়াপত্তন ঘটে। তাঁর তিন সহচর শাহ্ নাছির, শাহ্ কবির ও শাহ্ কলন্দর এ গ্রামে আস্তানা গাড়েন। তাঁরা শামসুদ্দিন বুখারীর (রহ.) নামের মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার ওরস পালন শুরু করেন। সে থেকে স্থানীয় অনুরাগী-অনুসারীরা নিয়মিত ওরস করে আসছে।

তবে মেলা শুরু হয়েছে তারও অনেক পর থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা ঘিরে আউলিয়া-অনুসারীদের মজমা বসেছে। গত সোমবার হয়েছে ফকিরি। দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে শতাধিক কাফেলায় বসে তারা গান-বাজনা করছে। এ উপলক্ষে রবিবার মেলায় শত শত বাউল-সাধক, দরবেশ ও পাগলের আগমন ঘটে।

দুদিন আগে থেকে বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় হাজারখানেক দোকানি মেলায় এসে পসরা সাজিয়ে বসেছে। সার্কাস, নাগরদালা, ছোটদের খেলনা ট্রেন, আসবাবপত্র বিক্রির আয়োজনও রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে মৃত্পাত্র, কসমেটিকস, খাবারের দোকান, শিশুদের সব রকমের খেলনাসহ বিচিত্র জিনিসপত্র। এ ছাড়া ফিরনি, বাতাসা, বিন্নি ধানের খইসহ বসেছে রকমারি স্টল। আছে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাসসহ নানা বিনোদন। জামালপুর থেকে আসা পান দোকানদার কামাল মিয়া বলেন, ‘খাজনা দিতে হচ্ছে বেশি। ’

তবে মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মাছ। বোয়াল, চিতল, কাতল, আইড়সহ বিশাল বিশাল মাছ সাজানো। কটিয়াদীর ব্যবসায়ী মতি মিয়া বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের সানু মিয়ার কাছে দুটি রুই, একটি আইড় ও একটি বোয়াল এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। ’

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এ মেলা। ’


মন্তব্য