kalerkantho


কৈফিয়তপত্রের মীমাংসা না করেই ডিগ্রি পরীক্ষার ফল

৩৩ পরীক্ষার্থী ‘অকৃতকার্য’ দুজনের আত্মহত্যার চেষ্টা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৩৩ পরীক্ষার্থী ‘অকৃতকার্য’ দুজনের আত্মহত্যার চেষ্টা

কেন ৩৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না, ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আট দিন আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ ধরনের একটি কৈফিয়তপত্র আসে ওই পরীক্ষার্থীদের নামে। এর উত্তর দেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু পরে বিষয়টি মীমাংসা না করেই তিন দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ওই ৩৩ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দুই পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ওই কলেজের ৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন তাঁরা। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। কিন্তু হঠাৎ গত ২৬ জানুয়ারি ৩৩ পরীক্ষার্থীর নামে কৈফিয়তপত্র পাঠায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কৈফিয়তপত্রে জানানো হয়, মার্কেটিং দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ করায় ওই ৩৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন পরীক্ষক।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না তা পত্র পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিতভাবে জানাতে হবে। উত্তর না পেলে পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটি একতরফা সিদ্ধান্ত নেবে। ওই চিঠি পাওয়ার পর ৩৩ পরীক্ষার্থী নির্দোষ দাবি করে ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর চিঠি পাঠান। কিন্তু এর কোনো ফয়সালা না করেই ৩১ জানুয়ারি ডিগ্রি প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, ওই ৩৩ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। সূত্র মতে, এ অবস্থায় পরীক্ষার্থী ঝর্ণা আক্তার ও সোহানুর রহমান রাসেল আত্মহত্যার চেষ্টা চালান নিজ বাড়িতে।

বুধবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন। সেখানে শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান রাসেল জানান, সমস্যার কারণে গেল বছর তাঁর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। এ বছর পরীক্ষা দিলেও তাঁকে বহিষ্কৃত দেখানো হয়েছে। রাসেল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জীবন থেকে দুটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। ’

সুস্মিতা সাহা বলেন, ভুল করলে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগ মুহূর্তে তাঁদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। কোনো হীন উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শামছুল হক চুন্নু বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই। শিক্ষার্থীরা কোনো ভুল করলেও নিরীক্ষক কেন দেখবেন না সে প্রশ্নই আসে। তবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো ভুল ছিল না। কলেজের উপাধ্যক্ষ মাসুদুল হক বলেন, ৮৩ জন পরীক্ষা দিলেও ৫০টি করে খাতা বান্ডেল করা হয়। বাকি ৩৩টি খাতার জন্য আলাদা একটি বান্ডেল করা হয়। ৮৩ জনের মধ্যে ৫০ জনের ফল এলেও ৩৩ জনের আসেনি। তাঁদের নামে কৈফিয়তপত্র পাঠানো হয় ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে। সেখানে মার্কেটিং বিষয়ের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় কেন তাঁদের বহিষ্কার করা হবে না মর্মে জবাব চাওয়া হয়। উপাধ্যক্ষ বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখা ও ওএমআর শিটে নম্বর তোলা ছিল। পরীক্ষক ভেবেছেন, ওই পরীক্ষার্থীরাই ওএমআর শিটে নম্বর তুলেছেন। এ অবস্থায় পরীক্ষক শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। উপাধ্যক্ষ বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো দায় নেই। ভুলক্রমে ৩৩টি খাতা সঠিক পরীক্ষকের কাছে না গিয়ে অন্য কোথাও মূল্যায়িত হতে পারে। পরে খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে মূল্যায়ন করা দেখে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন পরীক্ষক।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. বদরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির আগে অফিসিয়াল কিছু বলা যাবে না।


মন্তব্য