kalerkantho


লাখাইয়ে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু

নবীনগর ও ভাঙ্গায় আহত ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হবিগঞ্জের লাখাইয়ের পূর্ব বামৈ গ্রামে সোমবার রাতে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাগর মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো দুজন। এ ঘটনায় মা-ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মিতফুল বেগম (৪৫) ও তাঁর ছেলে তানভীর (২৫) ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে পূর্ব বামৈ গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে আজিজ ও তাঁর ভাইদের সঙ্গে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ নিয়ে তাঁদের চাচাতো ভাই একই গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে তানভীর ও তার মা মিতফুল বেগমের বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাগর ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় সাগরের ভাই আজিজ ও বারিক আহত হয়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তানভীর ও তাঁর মা মিতফুল বেগমকে আটক করে। লাখাই থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মা-ছেলেকে আটক করেছে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিদ্যাকূট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

পুলিশ লাঠিপেটা ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

নবীনগর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ ও বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে হামিদ, হাবিবুল্লাহ, দানিছ মিয়া, মুছা মিয়া, মোবারক ও হিলু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। বাকিরা নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উরখুলিয়া গ্রামের হামিদ মিয়া ও রাজ্জাক মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে দুই শিক্ষার্থীর হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মানিকদাহ ও হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা পরে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাঙ্গা থানার ওসি সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।


মন্তব্য