kalerkantho


বিয়েপাগল আলাল পুলিশের খাঁচায়

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিয়েপাগল আলাল পুলিশের খাঁচায়

নতুন বিয়ের মেহেদি এখনো মোছেনি, সেই হাতেই পরেছেন পুলিশের কড়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

আলাল উদ্দিন। বিয়েপাগল এক লন্ডনি! প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়াই একের পর এক বিয়ে করেই যাচ্ছিলেন। অবশেষে আলাল বন্দি হলেন পুলিশের খাঁচায়। সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৩২ বছর বয়সী আলাল উদ্দিন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বানিউন (লতিবপুর) এলাকার আলিফ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে আলাল উদ্দিন প্রথম বিয়ে করেন নবীগঞ্জের জয়নগার (দক্ষিণগ্রাম) এলাকার ফুলতাব উদ্দিনের মেয়ে লুবনা বেগমকে। বিয়ের মাস দেড়েক পরে আলাল পাড়ি জমান লন্ডনে। তখন লুবনা চলে আসেন বাবার বাড়ি। লন্ডনে যাওয়ার কিছুদিন পর লুবনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আলাল। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েন লুবনা। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী লুবনার অনুমতি ছাড়াই আলাল লন্ডনে জাম্মা নামের এক ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেন।

তাঁদের এক মেয়েসন্তানের জন্ম হয়। এ বিয়ের খবর জেনে লুবনা তাঁর স্বামী আলালের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলাল দেশে ফিরলে তারা বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বস্ত করে। এভাবেই কেটে যায় ১০ বছর। গত ২০ জানুয়ারি আলাল দেশে ফেরেন। খবর পেয়ে লুবনা বিভিন্নভাবে আলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এর মধ্যে গত ২৭ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের সরকারবাজার এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে হামিদা বেগমকে বিয়ে করেন আলাল। এ বিয়েতেও আগের স্ত্রীর কোনো অনুমতি নেননি তিনি। আর এই নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগর গোয়ালাবাজারের আলী ম্যানশনে ভাড়া নিয়ে বাস করছিলেন আলাল। আলাল একাধিক বিয়েতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছেন। এক বিয়েতে দিলবার, আরেক বিয়েতে দিলোয়ার নাম ব্যবহার করেন তিনি।

এদিকে লুবনা দীর্ঘদিন আলালের স্বজনদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো ফয়সালা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন। লুবনা গত ১ ফেব্রুয়ারি আলালের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ধর্মজিত সিনহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় আলালকে গ্রেপ্তার করে।


মন্তব্য