kalerkantho


আখাউড়ার সেই বখাটেকে পুলিশে দিল তার পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের কমনরুমে ঢুকে ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি থাপড় দেওয়া সেই বখাটে প্রিয়তম ঘোষ ওরফে প্রীতমকে ধরে পুলিশে দিয়েছে পরিবারের লোকজন। গত রবিবার রাতে ভাই রাকেশ কুমার ঘোষ সাধনের ফোন পেয়ে পুলিশ পৌর এলাকার রাধানগরের নিজ বাড়ি থেকে প্রীতমকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রীতমকে গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঘটনা জানার পরপরই প্রীতমকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য)। গত শনিবার দুপুরে কলেজে ঢুকে এইচএসসি প্রথম বর্ষের মানবিক বিভাগের এক ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি থাপড় দেয় প্রীতম। এ সময় ওই ছাত্রীর মুখ এসিডে ঝলসে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

আখাউড়া থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন তরফদার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার করা মামলায় প্রীতমকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর দুয়েক ধরে প্রতিবেশী কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত প্রীতম। শনিবার দুপুরে ঘটনা ঘটিয়েই পালিয়ে যায় রাধানগর ঘোষপাড়ার রাসমোহন ঘোষের ছেলে প্রীতম। পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে।

স্থানীয় লোকজনকেও সহযোগিতার আহ্বান জানায় পুলিশ। এ অবস্থায় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে আসে প্রীতম। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা প্রীতমের বড় ভাই সাধনকে বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সাধন তাত্ক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে বিষয়টি এসআই নাজমুল হোসেনকে অবহিত করেন। দ্রুত পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, প্রীতম বখাটে ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েক বছর আগে সে জীবিত থেকেও পরিবারকে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা করিয়ে ভারতে চলে যায়। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিতে সে এমন কাজ করলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হঠাৎ সে জনসম্মুখে চলে আসে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে খবর প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য