kalerkantho


লিবিয়ায় নিয়ে টাকা আত্মসাতের পর যুবক হত্যা!

`গাজীপুর আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লিবিয়ায় নিয়ে টাকা আত্মসাতের পর যুবক হত্যা!

মো. মোফাছেছর

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের এক যুবককে চাকরির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই যুবকের স্ত্রী রহিমা আক্তার গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর আদালতে আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বিচারক সিআইড পুলিশকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই যুবকের নাম মো. মোফাছেছর। কালিয়াকৈরের বেগমপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে তিনি।

রহিমা আক্তার বলেন, গত বছরের ৫ নভেম্বর তাঁর মামি শাশুড়ি বেগমপুর গ্রামের (বসবাস ঢাকার বাসাবোয়) মমতাজ বেগম তাঁর ছেলে বাদল ও ছেলের বউ জিয়াসমিনকে নিয়ে বাড়িতে (মোফাছেছর) এসে মোফাছেছরকে ভালো বেতনে লিবিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এ জন্য তিনি চার লাখ টাকা দাবি করেন। শর্ত অনুযায়ী মোফাছেছর বিমানে ওঠার আগে দুই লাখ ৩০ হাজার এবং বাকি টাকা লিবিয়ায় পৌঁছার পর দেওয়ার কথা। মমতাজ বেগম, মামাতো দেবর বাদল ও তাঁর স্ত্রী জিয়াসমিন দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর মোফাছেছরকে লিবিয়ায় পাঠান। সঙ্গে বাদলও যান। ১৩ ডিসেম্বর বাদল তাঁর মোবাইল থেকে ফোন করে রহিমাকে জানান, মোফাছেছর লিবিয়ায় পৌঁছেছেন।

বাকি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিলে তাঁকে চাকরি দেওয়া হবে। দুই দিন পর জিয়াসমিন রহিমার বাসায় এসে দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। দুই-তিন দিন পর মোফাছেছর ফোন করে জানান, টাকার জন্য তাঁকে লিবিয়ায় একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হচ্ছে। খাবার দেওয়া হচ্ছে না। পরে রহিমা আরো ৮০ হাজার টাকা দেন জিয়াসমিনকে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি রাত ৯টায় একটি ফোন থেকে বাদল ফোন করে রহিমাকে মোফাছেছরের মৃত্যু সংবাদ জানান। একপর্যায়ে তিনি ভিডিও দিয়ে লাশের ছবি ও মৃত্যু সনদ দেখান। লাশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির সাহারা হসপিটালে রয়েছে বলে জানান। রহিমা এ ঘটনায় জিয়াসমিনকে চাপ দিলে তিনি স্বীকার করেন, তাঁরা মোফাছেছরকে গলাকাটা ভিসা ও পাসপোর্টে লিবিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। পরে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি লিবিয়া থেকে ফোনে বলেন, আরো এক লাখ ৮০ হাজার টাকা না দিলে মোফাছেছরের লাশ দেশে পাঠানো হবে না।

রহিমার মামলার আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালত সিআইডির ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিকে মামলাটি তদন্ত এবং লিবিয়া থেকে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের না পাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য