kalerkantho


মিলেছে নির্মাণত্রুটির প্রমাণ

মেহেরপুরে ভাঙা হচ্ছে নতুন সেই স্কুল ভবন

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভেঙে ফেলা হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনীতে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়া সিঁড়ির সেই স্কুল ভবন। উপজেলার নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজে ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশে ওই ভবন ভাঙা শুরু হয়।

গতকাল সোমবার সকালে মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার ও গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হকের উপস্থিতিতে ঠিকাদারের শ্রমিকরা ভবন ভাঙা শুরু করে। অনিয়ম করে ভবন নির্মাণ করার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে ভবন ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা স্কুল চত্বরে জড়ো হন এবং পুরো ভবন ভেঙে ফেলার দাবি করেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এ বিল্ডিংয়ের একটি অংশ থাকলেও আমরা মেনে নেব না। প্রয়োজনে আমাদের স্কুলের জমি ফাঁকা করে দেওয়া হোক। আমরা দরকার হয় ওখানে চাষাবাদ করব। ’

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার শেলী বলেন, অনিয়ম করে ভবন বানানো হয়েছে। ভবন পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, গত বছর এখানে ১২০ জন শিক্ষার্থী ছিল।

নতুন ভবনের সিঁড়ি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ বছর মাত্র ৭০ জন ভর্তি হয়েছে। দুর্বল এই ভবন পুরো ভেঙে নতুন করা না হলে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানিয়েছেন তাঁকে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুমন আলী বলেন, ‘অনিয়ম করে ভবন তৈরি করা হয়েছে। লোক দেখানো ভাঙা হলে আমরা তা মানব না। ’ এলজিইডির গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে এই ভবনের যতটুকু ত্রুটি আছে সেটুকু ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার জানান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশে ওই ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান, ওপর থেকে ভাঙা হবে। যতটুকু ত্রুটি পাওয়া যাবে ততটুকু ভেঙে ফেলা হবে। যদি ভবনের নিচ পর্যন্ত ত্রুটি পাওয়া যায়, তাও ভাঙা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ডিসেম্বর ওই ভবনের প্রথম তলার সিঁড়ি তড়িঘড়ি করে প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতে ঢালাই করা হয় । এর ১৫ দিন পর গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য শাটারিংয়ের কাজ শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে সিঁড়ি ধসে পড়ে।


মন্তব্য