kalerkantho


আওয়ামী লীগ-মেয়র সমর্থকদের হাঙ্গামা

খাগড়াছড়িতে ছয়জন আহত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খাগড়াছড়ি সদরের শালবন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও পৌর মেয়রের (স্বতন্ত্র) সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলায় ছয়জন আহত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাফিয়া বেগম, বিল্লাল হোসেন, খায়রুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম রনি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জোস্না বেগম।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন অভিযোগ করেন, রবিবার রাতে শালবনে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আবদুল জলিলের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জোস্না বেগম বলেন, ‘চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ও আত্মীয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমি, মোসলেমের স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হই। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়র সমর্থক এক নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সমর্থকরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। তারাই শালবনসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ’ তিনি পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই শালবনসহ খাগড়াছড়ি পৌর এলাকায় দুই পক্ষে বিরোধ চলছে। এর অংশ হিসেবেই রবিবারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।

এদিকে কারো কারো অভিযোগ, চিহ্নিত অধিকাংশ ক্যাডারই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় নিরপরাধ লোকজনকে আটক করছে পুলিশ।

সদর থানার ওসি তারেক মো. আব্দুল হান্নান এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে বিগত পৌর নির্বাচনের পর থেকে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ ও মেয়র সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকে আহত হয়। গত ১৯ জানুয়ারি মেয়র সমর্থকদের হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী গুরুতর আহত হন। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া পৃথক ঘটনায় মারধরের শিকার হন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইস উদ্দিন।

উল্লেখ্য, বিগত পৌর নির্বাচনে রফিকুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছে।


মন্তব্য