kalerkantho


ফেনী

ছাত্রদলের দ্বন্দ্বে ঘি ঢালছে বিএনপি

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফেনীতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দুটি পক্ষ রয়েছে। মূল দলের এই কোন্দলের প্রভাব রয়েছে অঙ্গসংগঠনেও।

জেলা ছাত্রদলেও দুটি কমিটি রয়েছে। এর একটি গঠন করেছে কেন্দ্র। আরেকটি গঠন করেছে স্থানীয়রা। জেলা বিএনপির একাংশের নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট স্থানীয় কমিটি আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় থাকে।

দীর্ঘদিন এমন অবস্থা বিরাজ করায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলা কমিটি ঘোষণার আড়াই বছর পার হলেও বিরোধ থাকায় পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসা করতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তত্কালীন কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে। কমিটিতে সভাপতি পদে নইম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম কায়সার এলিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সালাহউদ্দিন মামুনের নাম ঘোষণা করা হয়।

ওই কমিটি ঘোষণার পর যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ করে তৃণমূলের একাংশ। একপর্যায়ে সিনিয়র সহসভাপতির পদ থেকে এস এম কায়সার এলিন পদত্যাগ করলে ছাত্রদলে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। কয়েক দিনের মাথায় তৃণমূল ছাত্রদলের ব্যানারে সম্মেলন করে জেলা ছাত্রদলের আরেকটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেয় তারা। ওই কমিটিতে মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা সভাপতি ও এস এম কায়সার এলিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, মেজবাহ-এলিন মূলত ফেনী-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের (ওরফে ভিপি জয়নাল) অনুসারী। অন্যদিকে বরাত-মামুন হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টারের অনুসারী। এই তাহের-জিয়া হলেন প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের ঘনিষ্ঠ। সাঈদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাই ছিলেন। অন্যদিকে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে খালেদার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হয়েছেন ভিপি জয়নাল।

বরাত-মামুন নেতৃত্বাধীন কমিটি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও দুই পক্ষের টানাটানিতে তৃণমূলের কর্মীদের কাছে পায় না। এতে করে দিন দিন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হতে থাকে তারা। আড়াই বছর নেতৃত্বে থেকে এ কমিটি শুধু ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। বাকি রয়েছে জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ফেনী পৌরসভা, ফেনী সরকারি কলেজ, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী উপজেলা, সোনাগাজী পৌর ও কলেজ শাখার কমিটি গঠন। উদ্যোগ নিয়েও তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পরও পদ-পদবি না পাওয়ায় কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন নেতা বিদেশে পাড়ি জমান। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কেউ কেউ জেলও খাটছে।

এ ছাড়া বরাত-মামুন কর্তৃক ঘোষিত সদর উপজেলা কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সব ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরা বালিগাঁও, ছনুয়া ও মোটবী ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছে। সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় ও ঢাকায় অবস্থান করায় বাকি ৯টি ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির একাংশের নেতাদের সমর্থন নিয়ে মেজবাহ-এলিন কমিটি পৃথকভাবে ফেনীর রাজপথে সক্রিয় থাকে। এ ছাড়া তারা সদর উপজেলা কমিটি ঘোষণা করেছে।

দলীয় আরেকটি সূত্র জানায়, বৈধতার দিক দিয়ে ছাত্রদলের মূল নেতৃত্বে বরাত-মামুন থাকলেও তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি জেলা যুবদলের সভাপতি গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকের মুক্তির দাবিতে জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের অগ্রভাগে জেলা সভাপতি বরাত থাকলেও তাতে দেখা মেলেনি সাধারণ সম্পাদক মামুনের। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অনেকে বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করছে। এর আগে জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটিতে পছন্দের লোককে স্থান দেওয়া নিয়ে বরাত-মামুনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, আলাদা কমিটি ও দুই নেতার মধ্যে বিরোধ থাকায় কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে।

স্থানীয়দের গঠিত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন বলেন, ‘কেন্দ্র আমাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। তাই আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে আলাদা কমিটি করেছি। ’


মন্তব্য