kalerkantho


চোখ মেলেছেন হাসি স্বামী রিপন অধরা

খুঁজে বের করার নির্দেশ এসপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চোখ মেলেছেন হাসি স্বামী রিপন অধরা

রিপন

ছয় দিন পর চোখ মেলেছেন হাসি। তবে খুলেই মুহূর্তে তা বন্ধ করে নিচ্ছেন। সেই চোখে নেই প্রাণ। নেই স্বপ্ন। চেতনা ফিরলেও অবচেতন অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানান, এখনো জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি।

গত সোমবার কালের কণ্ঠ মনিকা শারমিন হাসিকে নিয়ে ‘আবার হাসতে চায় হাসি’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদটি পড়ে অনেক পাঠক এ প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে বর্তমান অবস্থা জানতে চায়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচিত হয়। সবাই দাবি জানায়, তাঁর স্বামী আবু নাসের ইলিয়াস রিপনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাদকাসক্ত রিপনকে ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

শিগগির সে গ্রেপ্তার হবে। তার পরিবারের যেসব সদস্য নির্যাতনের সময় উপস্থিত ছিল বা পরোক্ষভাবে ইন্ধন দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। ’ মামলার তদন্তকারী শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, ‘রিপন গাঢাকা দিয়েছে। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও নেই। এদেরকেও খোঁজা হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, শিবগঞ্জের পরিহার গ্রামে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করা হতো গৃহবধূ হাসিকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে বাগিবতণ্ডার একপর্যায় শিশুদের সামনে স্বামী রামদা দিয়ে স্ত্রী হাসির মাথা, মুখ, গলা, বুক, পেটসহ ১৬টি স্থানে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা এভাবে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকলেও রিপনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। পরে ঘটনা জানতে পেরে হাসির বাবা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে প্রায় আট ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। ছয় দিন পর গতকাল তাঁর চেতনা ফেরে।

শজিমেক হাসপাতালের ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. আরাফাত বলেন, ‘প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে হাসির শরীরে রক্ত দিতে হয়েছে। তার শরীরে মাঝেমধ্যেই খিঁচুনি হচ্ছে। চেতনা ফিরলেও সে কথা বলা বা ইশারা দিতে পারছে না। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে এ মুহূর্তে তাকে কোথাও স্থানান্তর করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বিশেষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া অন্য কোথাও স্থানান্তর করা নিরাপদ নয়। ’

রূপগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতনের আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

এদিকে রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান,  রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব এলাকায় এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য এক গৃহবধূকে আটক রেখে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী-সতিন, দেবরসহ শশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলো স্বামী কোরবান আলী, সতিন মায়া, তন্ময়, সেলি বেগম, শিপু, লতা বেগম, করিম, শিলা, রুমা। এদের মধ্যে রবিবার দুপুরে তারাব থেকে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উদ্ধারের সময় আসামি দেবর শিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ঘটনার এক দিন পার হয়ে গেলেও গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আসামিরা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার সকালে ওই গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে কেচি দিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে লাঠি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর মা তাসলিমা বেগম পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত শিপুকে গ্রেপ্তার করে।


মন্তব্য