kalerkantho


দুই ছাত্রকে পিটিয়ে জখম বদরগঞ্জে বিক্ষোভ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুই ছাত্রকে পিটিয়ে জখম বদরগঞ্জে বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে গতকাল রংপুরের বদরগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নাটারাম উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে দুই ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। শিক্ষা সফরের জন্য বেশি চাঁদা নির্ধারণের প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া যাবে না।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, গত বছর প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে জয়পুরহাটের পাহাড়পুরে শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য চাঁদার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। এবার মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিন্ন জগতে যাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা চাঁদা ধরা হয়েছে। দশম শ্রেণির দুই ছাত্র চাঁদা কমানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করতে যায়। এতে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ওই দুজনকে গালাগাল করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে দুজনকে বিদ্যালয় মাঠ থেকে ধরে এনে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাদের আটকে রেখে কয়েক দফা মারধর করা হয়।

এতে ওই দুই ছাত্রের মাথা, পিঠ ও হাতে মারাত্মক জখম হয়। বিদ্যালয়ে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করতে যায়। এ সময় শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র, মজনু মিয়া, মিনহাজ উদ্দিনসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নুরন্নবী, দেলোয়ার হোসেন, আতিয়ার রহমান ও জুয়েল রানা শিক্ষার্থীদের গালাগাল ও মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলের দিকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ৎইউএনও) কাছে এসে লিখিত অভিযোগ দেয়।

দুই ছাত্রী বলে, ‘স্যাররা আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন। ’

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র বলেন, ‘আমরা এবার জেলার কাছে শিক্ষা সফর করার জন্য জায়গা নির্ধারণ করার আলোচনা করছিলাম। আলোচনায় সন্তুষ্ট না হয়ে দুই ছাত্র কক্ষের টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করে। তাদের শাসন করা হয়। এর বেশি কিছু হয়নি। ’

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. আইয়ুুুব আলী বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামান্য ভুল-বোঝাঝুঝি হয়েছে। দুই ছাত্রকে পেটানোর ঘটনা মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। ’ বদরগঞ্জ ইউএনও কাজী আবেদা গুলশান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য