kalerkantho


মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুই যুবককে হাতকড়া

নান্দাইলে নকল পুলিশের দস্যুতা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নান্দাইলে নকল পুলিশের দস্যুতা

দুর্বৃত্তরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে এভাবেই দুই যুবকের হাতে কড়া লাগিয়ে টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। ময়মনসিংহের নান্দাইলের তারেরঘাট বাজারের তামান্না এন্টারপ্রাইজ থেকে গত শনিবার রাত ১০টায় তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুলিশ পরিচয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুই যুবককে হাতকড়া পরিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে আটকে রেখে প্রায় এক লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের তারের ঘাট বাজারের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নে তারের ঘাট বাজারের পাশের সেতুর ওপারে তামান্না এন্টারপ্রাইজ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিতে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আলমগীর হোসেন ও তাঁর বন্ধু মো. শরীফুল হায়দার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। জানালার গ্রিলে দুজনের হাতে একসঙ্গে হাতকড়া লাগানো। বাইরে তখন শত শত লোকের ভিড়। ভেতরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ওই দুই যুবকের হাতকড়া কেটে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই তাঁর বাড়ি। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি পাথর ও বিটুমিনের ব্যবসা করছেন। সন্ধ্যার পর ঢাকায় একটি ওষুধ কম্পানিতে চাকরি করা বাল্যবন্ধু আসেন তাঁর দোকানে। দুই বন্ধুর আড্ডার একপর্যায়ে চারজন লোক দোকানে ঢুকে শাটার বন্ধ করে একজাতীয় গ্যাস ছিটালে তাঁদের চোখ জ্বালা করতে শুরু করে।

তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের দুজনকে থানায় যেতে বলে হাতে হাতকড়া পরিয়ে চড়-থাপর ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। কী অপরাধে মারধর করছেন আর থানাই বা কেন যেতে হবে—জানতে চাইলে দলটির এক সদস্য কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাঁদের চোখের সামনে গুলি ভরে অস্ত্রটি মাথায় ঠেকায়। এ সময় মুখোশ পরা এক ব্যক্তি তাঁদের দুজনকে আবারও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। ভয়ে ভীত দুজন তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চান। পরে দুজনের হাত জানালার গ্রিলের বাইরে নিয়ে হাতকড়া দিয়ে আটকে দেয়।

দলটির সদস্যরা ক্যাশ টেবিলের ড্রয়ার তছনছ করে। তাঁদের দুজনের পকেট হাতড়ে টাকা, গলায় থাকা সোনার চেইন ও ক্যাশ টেবিলের ওপর রাখা তিনটি দামি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দলটির এক সদস্য টেবিলের ওপর রাখা মোটরসাইকেলের চাবিটি তুলে নিয়ে সেটি চালিয়ে নান্দাইলের দিকে চলে যায়। পরে তাঁরা জানালা খুলে চিত্কার করে লোক জড়ো করেন।

জুয়েল মিয়া ও হুমায়ুন কবীর নামের স্থানীয় দুজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা দ্রুত থানায় খবর দেন। পরে নান্দাইল থানা থেকে পুলিশ এসে কাটার দিয়ে হতকড়া কেটে ওই দুই যুবককে মুক্ত করে থানায় নিয়ে যায়।

নান্দাইল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এটি একটি ব্যতিক্রমী দস্যুপনা। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আলমগীরের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমেছে।


মন্তব্য