kalerkantho


নালিতাবাড়ীতে কমান্ডারকে নিয়ে মন্তব্য

মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের অভিযোগ তোলায় আরেক মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে এবার আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল রবিবার নালিতাবাড়ীর আমলি আদালতে ওই কমান্ডারের পক্ষে মামলাটি করেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারী।

মামলায় সম্মানহানির অভিযোগে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোমিনুন্নেসা খানম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিবাদী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। এ ক্ষেত্রে আগামী ৭ মার্চ বিবাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাতে নালিতাবাড়ী আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়েছে। এ অভিযোগের সূত্রে গত ২৭ জানুয়ারি পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৮ জানুয়ারি নালিতাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে উপজেলা কমান্ডার শাহাব উদ্দিনের নাম বাদ দিয়ে তার স্থলে ডেপুটি কমান্ডার মো. আব্দুস সালামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ডেপুটি কমান্ডার সালাম লিখিতভাবে জানিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে উপজেলা কমিটি।

একই সঙ্গে কমান্ডার শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল উপজেলা কমান্ডার থাকা অবস্থায় কমান্ডের অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং ৯৮ শতাংশ জমি অবৈধভাবে হস্তান্তর করেছেন। শাহাব উদ্দিন উপজেলা কমান্ডার নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সেসব অপকর্ম উদ্ঘাটন করায় মোস্তাফিজুর রহমান তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এরই জের ধরে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করতেই তাঁর বিরদ্ধে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তোলা হয়। প্রকৃতপক্ষে কমান্ডার শাহাব উদ্দিন ১৯৭১ সালে ভারতের মেঘালয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে পর পর দুবার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি উপজেলা কমান্ডার নির্বাচিত হন।


মন্তব্য