kalerkantho


গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতাধিক স্থাপনা

চকরিয়ায় ৭১২ একর বনভূমি দখলমুক্ত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়ায় সামাজিক বনায়ন উজাড় করে ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলে নিয়ে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। এতে প্রায় ৭১২ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় দখলবাজরা সংঘবদ্ধ হয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তবে বনকর্মীদের ব্যাপক তত্পরতায় পিছু হটে দখলবাজরা।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন আলোচিত উচিতার বিল মৌজার সংরক্ষিত বনভূমিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বি এম জসীম উদ্দিন, ফাঁসিয়াখালী বনবিট কর্মকর্তা জাকের আহমদ, ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা মো. সাব্বির জাহাঙ্গীর বিন ওয়ালী। বিপুলসংখ্যক বনকর্মী, বনজায়গিরদার ও শ্রমিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অংশ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতার বিল মৌজার সংরক্ষিত বনভূমির প্রায় ৭১২ একর ফাঁসিয়াখালী ও চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটার একাধিক চক্র ভূমিহীন সমিতি নাম দিয়ে দখলে নেয়। গত দুই বছরে সামাজিক বনায়নের আওতায় আগর বাগান, দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি সামাজিক বনায়নের কয়েক লাখ গাছ কেটে এই জবরদখল করা হয়। আর কেটে ফেলা এসব গাছ লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয় উচিতার বিল তথা সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে তোলা অবৈধ ইটভাটায়। এতে একেবারেই উজাড় হয়ে যায় সামাজিক বনায়নের একাধিক প্রকল্প।

এরপর এসব বনভূমি দখলে নিয়ে প্লট আকারে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রগুলো। রেঞ্জ কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমিতে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট। গতকালের সাঁড়াশি অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রায় ৭১২ একর বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। ওই স্থানে গড়ে তোলা অনুমোদনহীন ইটভাটার কারণেই মূলত সামাজিক বনায়ন রক্ষা করা যায়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। রেঞ্জ কর্মকর্তা জসীম বলেন, ‘অভিযান চালাতে গেলে বনভূমি দখলবাজরা সংঘবদ্ধ হয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। বনকর্মীদের ব্যাপক তত্পরতার মুখে তারা পিছু হটে। দখলকারীদের নিবৃত্ত করতে বনকর্মীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। ভবিষ্যতে সংরক্ষিত বনভূমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। ’

 


মন্তব্য