kalerkantho


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গাছের মড়ক

ফখরে আলম, যশোর   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গাছের মড়ক

অজ্ঞাত রোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় বড় গাছ মরে যাচ্ছে। ছবিটি খুলনা-বেনাপোল সড়কের চাঁচড়া মোড় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশের বড় বড় গাছ অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে। ২০-২৫ বছর বয়সের শিশু, বাবলা, রেইনট্রি, কড়াই, সেগুনগাছ মরে যাওয়ার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরে গাছের এই মড়ক অব্যাহত থাকলেও তা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে এ রোগ বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে প্রথম গাছে মড়ক দেখা দেয়। অল্পদিনের মধ্যেই তা যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরায় ছড়িয়ে পড়ে। গাছের এ মড়ক পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা এই অঞ্চলে ছুটে আসেন। তাঁরা আক্রান্ত গাছের বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তারা স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান, মৃত্তিকাজনিত ছত্রাকের কারণে গাছ মরে যাচ্ছে। এ ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ে আরো গাছে মড়ক লাগতে পারে। এরপর বিষয়টি নিয়ে তেমন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খুলনা-বেনাপোল, যশোর-ঢাকা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-নড়াইল, ঢাকা-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, নাভারন-সাতক্ষীরা সড়ক ছাড়াও এই অঞ্চলের আরো অনেক সড়কের দুই পাশের বয়সী সব গাছ মরে গেছে। উঠে গেছে এসব মরা গাছের ছাল-বাকল। হারিয়ে গেছে সবুজ। এ ছাড়া অনেক ব্যক্তিগত বাগানেও মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কলেজের ২০ বছর বয়সী কয়েকটি শিশুগাছ মরে গেছে। যশোর শহরতলির চাঁচড়া কবরস্থানের শিশুগাছগুলোও মরে গেছে। যশোর সদর উপজেলার তোফাজ্জেল হোসেনের অনেক গাছই মরে গেছে। সবচেয়ে বেশি মড়ক লেগেছে শিশুগাছে। তবে বাবলা, মেহগনি, সেগুন, রেইনট্রিরও মারা যাচ্ছে। যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকার খুলনা-বেনাপোল সড়কের বেশ কয়েকটি গাছ কয়েক বছর আগে মারা গেছে। মরা গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ‘ফসিলের মতো’।

এলাকার ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমাদের সামনেই গাছগুলো মারা গেছে। মূল্যবান এসব গাছের ছাল-বাকল কিছুই নেই। কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেন কেটে নিচ্ছে না তা জানি না। ’ এ ব্যাপারে যশোর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন খান বলেন, কয়েক বছর ধরে ছত্রাকজনিত রোগে গাছ মরে যাচ্ছে। শুধু শিশুগাছ নয়, রেইনট্রি, মেহগনিগাছও মরছে। যেসব বিভাগের গাছ মরছে তাদের তত্পর হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে গবেষণা দরকার।


মন্তব্য