kalerkantho


কর্ণফুলী পেপার মিল

ব্যয় কমাতে গণবদলি

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উত্পাদন কমে যাওয়ায় খরচ কমাতে ‘অপ্রয়োজনীয় জনবল’ অপসারণ করে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিল কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানের ২৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার এক অফিস আদেশে এই বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান জাবেদ আনোয়ার। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই কাগজকলে যে উত্পাদন হচ্ছে তা খুবই কম। এর জন্য এত বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন নেই। তাই ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন অন্যান্য কারখানায় বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের ৫৬০ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় মুহাম্মদ আনওয়ারুর রশীদ, মো. মামুনুল, অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অব পার্সোনাল অফিসার, মো. ফখরুল আলম, উপকর্মচারী প্রধান-মান-১, বিসিআইসি স্বাক্ষরিতপত্রে এ আদেশ জারি করা হয়। এসব শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে চট্টগ্রামে সিইউএফএল, টিএসপিসিএল, সিসিসিএল, এএফসিসিএল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এসএফসিএল, সিলেট, পিইউএফএফএল, পলাশ, ইউএফএফএল, আশুগঞ্জ, জেএফসিএল, তারাকান্দি ও জামালপুরে বদলি করা হয়। বর্তমানে এ বদলির আগে পর্যন্ত কেপিএমে সর্বমোট শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা ছিলেন ৯৫৫ জন। এর আগে সর্বশেষ কেপিএমের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সংস্থার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩৩০ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল।

১৯৫১ সালে প্রমত্তা কর্ণফুলী নদীর তীরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় স্থাপিত হয় এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কাগজকল। এর প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে উত্পাদিত বাঁশ। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ১৯৫৩ সালের ১৬ অক্টোবর বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।


মন্তব্য