kalerkantho


ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন

হামলায় বার্ষিক ক্রীড়া পণ্ড

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কেরামতিয়া আলিম মাদরাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে কিছু যুবক। গতকাল শনিবার দুপুরে সরকারদলীয় লোকজনকে যথাযথ সম্মান ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে মঞ্চে বসতে না বলায় এ ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। এ সময় বাইরে বহিরাগতরা দা ও লাঠি নিয়ে অবস্থান করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও জাতীয় পার্টির লোকজন ফখরুল ইমামকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনাস্থল উচাখিলা ইউনিয়নের কেরামতিয়া আলিম মাদরাসার মাঠে দুপুর দেড়টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চটি ফাঁকা। নিচে কয়েকটি ভাঙা টেবিল ও বেঞ্চ পড়ে আছে। ডেকোরেটরের লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চেয়ারগুলো জড়ো করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টহল দিচ্ছে পুলিশের একটি দল।

মাদরাসার ক্রীড়া শিক্ষক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, সংসদ সদস্য অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার পর স্কাউটের একটি দল শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে। এরপর ঘোষক প্রধান অতিথিকে জাতীয় পতাকা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছফিউল্লাহ সরকারকে ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের জন্য আহ্বান জানান। এ সময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের নাম ও বসতে না বলায় তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে চলে যান।

পরে প্রতিযোগিতার দুটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ইভেন্ট শুরুর প্রাক্কালে ১০-১৫ জন যুবক মাঠে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এতে আতঙ্কিত প্রতিযোগীরা দৌড়ে চলে যায়। মাদরাসার অধ্যক্ষ মাইকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সবাইকে দ্রুত চলে যেতে বলেন।

আরো দুজন শিক্ষক বলেন, আধাঘণ্টা তাণ্ডব চলার পর ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল আলম খান সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে কড়া নিরাপত্তা দিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, তাঁরা আসার পর ঘটনাস্থল ফাঁকা দেখেছেন। ফের যাতে কিছু না ঘটে সে জন্য একদল পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. সাইদুল হক সরকার ও আওয়ামী লীগের দুজন সমর্থক বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ক্রীড়ার মতো অরাজনৈতিক আসরে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাদের যতটা মূল্যায়ন করেছে,  ঠিক ততটাই অবমূল্যায়ন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের। মঞ্চে উপস্থিত থাকার পরও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নাম উচ্চারণ করা হয়নি। এতে সাধারণের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ছাড়াও ভাষার মাসে প্রধান অতিথিকে দেওয়া মানপত্র ছিল ইংরেজি ভাষায়। সব কিছু মিলিয়ে খুব অপমানিতবোধ করে চুপিসারে সেখান থেকে চলে আসি। তারপর কী হয়েছে বলতে পারব না। ’ আপনার লোকজন অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এরা আমার লোক নয়। এলাকার সাধারণ মানুষ। ’

মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মো. আবদুল মতিন বলেন, জেনেশোনে অনুষ্ঠানে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠান মঞ্চে আলাদা করে নাম না বলে উপস্থিত সব বিশেষ অতিথিকে ‘অতিথিবৃন্দ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। হামলার সময় তাঁকে সরিয়ে নেওয়ায় তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি।

ওসি বদরুল আলম খান বলেন, ‘যথাযথ মূল্যায়ন না করায় একটা ক্ষোভ থেকে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে হৈচৈ করে মৃদু প্রতিবাদ করেছিল। এরপর কিছু বহিরাগত হৈচৈ শুরু করলে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাতিল ঘোষণা করে। ’

সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম জানান, ‘জাতীয় সংগীত গেয়ে পতাকা উত্তোলনের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে অনুষ্ঠানের ঘোষক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নাম বলেননি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন। পরে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এর বেশি কিছু নয়। ’


মন্তব্য