kalerkantho


গুজব রটিয়ে লুট

আতঙ্ক কাটছে না চরদেহুন্দাবাসীর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চরদেহুন্দা গ্রামে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আতঙ্ক কাটেনি গ্রামবাসীর। তারা অভিযোগ করে, প্রতিপক্ষের লোকজন এখন ক্ষেতের ফসল কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে। কেউ কেউ ঘর মেরামতের চেষ্টা করছে। গ্রামবাসী জানায়, ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় তারা আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

গ্রামের রহিমা বেগম জানান, অনেক কষ্টে ধারদেনা করে তিনি গত বৈশাখে ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এক রাতে সেটি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে যে চাল, হাঁড়িপাতিল ছিল তা-ও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা খেয়ে না-খেয়ে আছেন। শিশুদের ঠিকমতো খোঁজখবর রাখতে পারছেন না। কাপড়চোপড়ের অভাবে শীতে কষ্ট করছে শিশু ও বয়স্ক লোকজন।

কিভাবে যে এ ক্ষত কাটিয়া উঠবেন, ভেবে পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, আহত একজন মারা গেছে বলে গুজব রটিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাড়াইল উপজেলার জটারকান্দা গ্রামের লোকজন চরদেহুন্দা গ্রামের ২০টি বাড়িতে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনা নিয়ে গতকাল শনিবার শেষের পাতায় ‘গুজব রটিয়ে গ্রাম লুট’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ।

এদিকে গতকাল সকালে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছমা আরা বেগম। তাঁকে পেয়ে অনেক নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তারা কিভাবে সেই রাতে হামলা ও লুটপাট করা হয়, তার বর্ণনা দেন। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়িঘর পরিদর্শন করে তাদের সান্ত্বনা ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত সোহরাব হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের যে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে, তাতেই খুশি হয়েছি। এতে আমাদের সাহস বেড়েছে। ’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে। হামলাকারীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাল-পরশু মামলা করা হবে। ’

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির রব্বানী বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ’


মন্তব্য