kalerkantho


রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল

দুই অ্যাম্বুল্যান্স বন্ধ ভোগান্তিতে রোগী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। অথচ জ্বালানি তেলের অভাবে চার দিন ধরে এ হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুল্যান্স বন্ধ রয়েছে।

ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক রোগী ও তার স্বজনরা হট্টগোল করছে।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীর ভাই আফজাল ফকির বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত ভাইকে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভাইকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ’ হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স খুঁজছেন। তা না পেয়ে সব শেষে তাঁরা একটি মাহেন্দ্র (থ্রি হুইলার) ভাড়া করেন।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ব্রাদার মামুন অর রশিদ বলেন, ‘দিনে যেমন তেমন, রাতের অবস্থা ভয়াবহ। গত শুক্রবার রাতে আমি জরুরি বিভাগে ছিলাম।

রাতে আকলিমা নামের একজন রোগী আসেন। আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রোগীর চোখের পর্দা ফুটো হয়ে গেছে। যার ন্যূনতম সেবা এ হাসপাতাল থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে রোগীকে ফরিদপুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানান্তর করার পর রোগী ও তাঁর স্বজনরা পড়ে মহাবিপদে। দীর্ঘ সময় অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্রতে করে নিয়ে যায়। একই রাতে শিশু ও গর্ভবতী আরো চারজনকে স্থানান্তর করা হয়। তারাও দুর্ভোগে পড়ে। ’

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশীল কুমার রায় বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী শহরের রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশন থেকে সদর হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুল্যান্সের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ওই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের হাসপাতালের কাছে তেল বাবদ পাওনা হয়েছে ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৮ টাকা। টাকা দিতে না পারায় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। ’ তিনি জানান, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে চিঠি দেয়। সেই সঙ্গে টাকা পাওয়া না গেলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে মর্মে জানায়। বিষয়টি রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে তাঁরা অবহিত করেন। সিভিল সার্জন ৩৫ লাখ টাকা চেয়ে গত ২৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) বরাবর চিঠি দেন। তবে তাঁরা গতকাল শনিবার পর্যন্ত বরাদ্দ পাননি। প্রতিদিন ১০-১২ জন রোগীকে হাসপাতালের এই অ্যাম্বুল্যান্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকা অথবা ফরিদপুর পাঠানো হয়। এতে ঝামেলাবিহীন, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে রোগীরা তাদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে যেতে পারে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. রহিম বকস বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দ চেয়ে গতকাল শনিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো বরাদ্দ আমরা গতকাল বিকেল পর্যন্ত পাইনি। আশা করছি, দ্রুত বরাদ্দ পাব। ’


মন্তব্য