kalerkantho


বালিয়াকান্দিতে বিনা চাষে রসুন আবাদ

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বালিয়াকান্দিতে বিনা চাষে রসুন আবাদ

বর্ষার পর কাদার মধ্যে রসুন বপন করে ক্ষেতে খড় বিছিয়ে দেওয়া হয়। দুটি সেচের ফলে খড় পচে মাটিতে মিশে যায়। এতে ফলন বেশি হয়। ছবিটি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের মাঠ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় বিনা চাষে রসুন আবাদ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চলতি বছর বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩৫ একর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর হয়েছিল মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ওই ইউনিয়নের গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের আক্কেল আলী শেখের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন শেখ ২৪ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে রসুন আবাদ শুরু করেন। তাঁর এ চাষ দেখে এলাকার অনেকে রসুন উত্পাদনে ঝুঁকে পড়ে।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন শেখ জানান, ২০১৩ সালে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় থাকা তাঁর ভায়রা বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে বিনা চাষে রসুন উত্পাদন দেখে তাঁর মধ্যে আগ্রহ জাগে। তিনি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই জমিতে পানি সরে যাওয়ার পর কাদার মধ্যে ২৪ শতাংশ জমিতে রসুন বপন করেন। ক্ষেতে খড় বিছিয়ে দেন। দুটি সেচ দেওয়ার ফলে খড় পচে মাটিতে মিশে যায়। এতে সার কম লাগে।

এ পদ্ধতিতে চাষ করা দেখে অনেক কৃষক নানা কথা বললেও ওই জমিতে উত্পাদন করে ৮০ হাজার টাকার রসুন বিক্রি করেন। পরের বছর ৪০ শতাংশ ও এ বছর ৪৫ শতাংশ জমিতে রসুন চাষ করেছেন। বাম্পার ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরা তাঁর পরামর্শ চাচ্ছে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে রসুনের চাষ করলে জমিতে চাষ দেওয়া ও কোপানো লাগে না। সার ও ওষুধ কম লাগে। শুধু দুটি সেচ দিলেই হয়। চাষ করা ক্ষেতের চেয়ে অনেক বড় বড় গাছ ও ফসল বড় হয়। ফলে ১০-১২টি রসুন এক কেজি হয়। আমার উত্পাদন দেখে অন্য কৃষকরা সহযোগিতা চায়। আমি তাদের রসুন সরবরাহ করাসহ নানা ধরনের পরামর্শ দিই। আমার পরামর্শ নিয়ে এ বছর জলিল মৃধা, ইব্রাহিম মিয়া, আকবর শেখ, আলামিন শেখ বিনা চাষে রসুন আবাদ করছেন। এখন অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ’

মো. আলামিন শেখ, ইব্রাহিম মিয়া, আকবর শেখ বলেন, ‘দেলোয়ার শেখের বিনা চাষে রসুন আবাদে আমরা উৎসাহিত হয়ে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে চাষ শুরু করেছি। আশা করছি, এ পদ্ধতিতে দ্বিগুণ উত্পাদন হবে। অনেক কৃষক ভবিষ্যতে চাষ করার জন্য আগে থেকে আমাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। আর রসুনের দামও বেশ। বর্তমানে খুচরা ১৮০ টাকা কেজি। ’

জেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, এবার জেলায় পাঁচ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে রসুনের

আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চাইতে অনেক বেশি। বিগত মৌসুমে বাজারে রসুনের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক এবার এ ফসল আবাদের দিকে অধিক ঝুঁকেছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণে বর্ষার পানি সরতে ও চাষ করতে রসুন আবাদে এক-দেড় মাস পিছিয়ে যেতে হয়। সামান্য কাদার ওপর রসুন লাগালে সময় এগিয়ে আসে। এতে উত্পাদন খরচ কম হয় ও ফলন বাম্পার হয়। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ  করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রসুন আবাদ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। ’


মন্তব্য