kalerkantho


ভালুকায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উৎসব ৭ মার্চ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ভালুকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উৎসব’ উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ৭ মার্চ এ উৎসবের আয়োজন করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল জাকির, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিক কর্মপন্থা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভাষণের পূর্ণাঙ্গ সিডি ও প্রিন্ট কপি উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ওই সিডি দেখে দেখে বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের ভাষণটি বুঝবে, মুখস্থ করবে। ভাষণটি দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর অঙ্গভঙ্গি, তিনি কতবার হাত তুলেছেন, পেছনে নিয়েছেন, তাঁর কথা বলার ভঙ্গি, পরিহিত পোশাক ইত্যাদি অনুকরণ করবে প্রতিযোগীরা। ভাষণের কোথায় তিনি আঞ্চলিক, কোথায় শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করেছেন শিক্ষার্থীরা তা রপ্ত করবে। সর্বোপরি তারা বঙ্গবন্ধুর মতো করে বলার চেষ্টা করবে।

ফেব্রুয়ারিতে সুবিধাজনক সময়ে প্রথমে প্রতিষ্ঠান ও পরে ইউনিয়নভিত্তিক বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একজন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হবে। পরে আগামী ৭ মার্চ ভালুকা ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে পুরস্কৃত করা হবে। উৎসবকে ভিন্নরূপ দিতে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার দিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চ্যাম্পিয়ন এক শ প্রতিযোগী বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের পোশাক পরে কলেজ মাঠে উপস্থিত থাকবে। ভালুকার প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীকে ভাষণটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এটি বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত ভাষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণটির ওপর গবেষণা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বলা হয়, ‘পয়েট অব পলিটিক্স’। এ ভাষণে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, ধর্মনিরপেক্ষতা সর্বোপরি স্বাধীনতার সব উপাদান গাঁথা। ৭ মার্চের ভাষণটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, এটিকে জাতীয় ভাষণ ও এ দিনকে জাতীয় ভাষণ দিবস ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ভাষণটি আত্মস্থ করলে এ প্রজন্ম বুঝতে পারবে বঙ্গবন্ধু ভাষণটি কেন দিয়েছিলেন। পাকিস্তানিদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণগুলো কী ছিল?”

জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে জানতে ও বুঝতে পারবে। তা ছাড়া তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। ’


মন্তব্য