kalerkantho


প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

শেরপুরে আ. লীগ নেতার ওপর হামলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শেরপুরে আ. লীগ নেতার ওপর হামলা

শেরপুরে অধ্যক্ষ সুজনের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল গাছের গুঁড়ি ফেলে শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পুলিশ গুঁড়ি অপসারণ করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শেরপুর শহরের কসবা মোল্লাপাড়ায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাসান সুজন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও।

হুইপ আতিউরের সঙ্গে শহরের চকবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সভা করে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পর শহরে পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়। কসবা, নতুন বাসটার্মিনালসহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।

এদিকে, অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নেতাকর্মী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার কানাশাখোলা ও তারাকান্দিতে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে স্থানীয়রা অবস্থান নেয়। এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভা ডেকেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নতুন বাস টার্মিনাল পার হয়ে কসবা মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে অধ্যক্ষের বাড়ি। তিনি বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁর ওপর আক্রমণ করে। তারা লোহার রড ও কাঠের চালা দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করে। এ সময় তাঁর চিত্কারে আশপাশের লোকজন বের হয়ে এলেও কেউ কাছে ঘেঁষতে সাহস করেনি। পরে হামলাকারীরা তাঁকে একটি ইজিবাইক ডেকে হাসপাতালের দিকে পাঠিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জেলা হাসপাতালে ছুটে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন শিকদার এবং সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে আহতের খোঁজখবর নেন।

শেরপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষের হাতে-পায়ে ইনজুরি হয়েছে। কোমরেও প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল বলেন, ‘নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলাম। অধ্যক্ষ সুজন আমার পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থীর এলাকার কাছে তাঁর বাড়ি। প্রতিপক্ষ বিজয়ী হওয়ার পর অধ্যক্ষ সুজনের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছিল। মানুষ পরাজিত হলে প্রতিশোধপরায়ণ হয়, কিন্তু বিজয়ী হলে কেউ এমন করে না। এটা ন্যক্কারজক। ’

তবে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেনদেন নিয়ে সুজনের সঙ্গে কিছু লোকের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সুজনের আত্মীয়স্বজনরা কসবায় আল আমিন নামে একজনের দোকান ভাঙচুর করেছে। এসব নিয়েই তাঁর ওপর হামলা ঘটতে পারে। ’

শেরপুর সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কী কারণে এ হামলা ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক সন্দেহভাজনরা হলো শাহীন মিয়া, ইদু মিয়া, আবু মিয়া, পাপ্পু মিয়া ও রাসেল মিস্ত্রি। এরা সবাই শহরের কসবা বারাকপাড়ার বাসিন্দা এবং বয়স ১৯-২০ বছর। ’


মন্তব্য