kalerkantho

রাজীবপুরে ব্যবসায়ী অপহরণ

লাখ টাকা পণ দাবি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে অপহরণের পর তিন দিনেও ফল ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অপহরণকারীদের লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দরিদ্র ওই ব্যবসায়ীর পরিবার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকা জোগাড় করতে পারছে না তাঁর পরিবার। এদিকে অপহৃত ব্যবসায়ীর স্বজনদের ফোন দিয়ে দ্রুত টাকা চাওয়া হচ্ছে। নইলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত বুধবার ফোনে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল রাজীবপুর বটতলা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী বাজার। অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রথমে রাজীবপুর ও পরে দেওয়ানগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অপহৃতকে উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চররাজীবপুর সরকারপাড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের মেজ ছেলে বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বটতলা বাসস্ট্যান্ডে ফলের ব্যবসা করেন। তাঁর স্ত্রী সুমী খাতুন বলেন, বুধবার দোকান খোলার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হন।

কিন্তু সারা দিন দোকান খোলেননি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়েও কোনো সন্ধান মেলেনি। রাত ১০টার দিকে ফোন আসে। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফলের মহাজন আনোয়ার হোসেন আমাকে ডেকে আনে সানন্দবাড়ী বাজারে। কিন্তু তাঁকে পাইনি। পাঁচ-ছয়জন লোক আমার কাছে এলো, তারপর আর কিছু জানি না। এখন আমি তাদের হাতে বন্দি। এক লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠাও। না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। ’

অপহৃত বেলাল হোসেনের বাবা ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘ওই রাতেই আমার ছেলের মোবাইলে বিকাশ করে ১০ হাজার টাকা পাঠাইছি, যাতে তাকে মারধর না করে। আমরা সন্দেহ করছি, সানন্দবাড়ী বাজারের ফল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আমাদের কাছে কিছু টাকা পান। যা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার ছেলের ঝগড়া হয়েছে। ’

এদিকে দরিদ্র ব্যবসায়ীর পরিবার বাকি টাকা জোগাড় করতে পারছে না। এ অবস্থায় তিন দিনেও বেলালের খোঁজ না পেয়ে বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বাড়ির সবাই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তারা বলে, ‘মাঝে মাঝে ফোন খুলে জানতে চায়, কয় টাকা জোগাড় হইছে। আবার কয়, এক দিন করে সময় গেলে ২০ হাজার টাকা করে বাড়বে। ’ রাজীবপুর থানার ওসি পৃথীশ কুমার সরকার অপহরণের কথা স্বীকার করে জানান, ঘটনাস্থল হলো দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ী বাজারে। বিষয়টি দেওয়ানগঞ্জ থানাকে তার বার্তায় জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি বলেন, বিষয়টি তারাটিয়া, সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।


মন্তব্য