kalerkantho


ক্ষিপ্ত লোকজনের ভয়ে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ

আইন মানার অঙ্গীকার করিমগঞ্জের চালকদের

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জ-চামড়া সড়কে গত মঙ্গলবার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিক্ষুব্ধ লোকজনের ভয়ে চালকরা তাঁদের গাড়ি বের করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, চালকরা রাস্তায় নিয়ম না মেনে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় সড়কে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এ নিয়ে ওই চালকদের ওপর ক্ষিপ্ত লোকজন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির রব্বানি শহরের পাটমহলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে বলেন। নইলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। এ সময় চালকরা দুই হাত তুলে ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর অঙ্গীকার করেন। যেসব চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান তাঁদের চিহ্নিত করা হবে বলেও জানান নরসুন্দা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবু বাক্কার। তিনি বলেন, যেসব চালকের এখনো ড্রাইভিং লাইসেন্স করা হয়নি, সমিতির পক্ষ থেকে তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এর মধ্যে তা করা না হলে, গাড়ি চালাতে দেওয়া হবে না।

এদিকে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা আরা বেগম জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে অটোরিকশা ও টমটমের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে প্রশাসন। যাঁরা আইন ও নিয়মনীতি মেনে গাড়ি চালাবেন তাঁরাই রাস্তায় থাকবেন।

গত ৩১ জানুয়ারি সকালে কিশোরগঞ্জ শহরতলির সতাল এলাকায় অটোরিকশার চাপায় করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান মো. ফয়সাল মারা যান। এর কিছুদিন আগে করিমগঞ্জের কিরাটন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন কিরাটন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইবাদুর রহমান শামীম। এর আগে একই রাস্তায় নিহত হয় জেএসসি পরীক্ষার্থী আশিকুর রহমান রানা। তা ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই ব্যস্ত এ রাস্তায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আঘাত পেয়ে পঙ্গু হচ্ছে অনেকে।

স্থানীয় লোকজন বলছে, অটোরিকশা ও টমটমগুলো বেপরোয়া গতিতে রাস্তায় চলাচল করে। কিশোরগঞ্জ-চামড়া বন্দর সড়কটি খুবই ব্যস্ত একটি সড়ক। যেখানে ৪০-৪৫ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোই ঝুঁকির, সেখানে অভিযুক্ত যানবাহনগুলো ৬০-৭০ কিলোমিটার বা আরো বেশি গতিতে অহরহ চলছে। সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাই এসব যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সড়কের পাশে একটি মেডিক্যাল কলেজ, একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, দুটি মাদ্রাসা, দুটি কলেজ, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। গত ছয় মাসে এ সড়কে অন্তত ১০ শিশু হাতাহত হয়েছে টমটম ও অটোরিকশার চাপায়।


মন্তব্য