kalerkantho


৩৫ সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় অভিযোগপত্র

খাগড়াছড়ির মেয়রের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৩৫ সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দিদারুল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে অভিযোগপত্র (তদন্ত প্রতিবেদন) দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন খাগড়াছড়ি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিলে গত ২০ ডিসেম্বর একযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন ওই ৩৫ সাংবাদিক। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় বিতর্কিত পৌর মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে গতকাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

গত ২০ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের আলোকচিত্র সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে পেটানোর প্রতিবাদে শাপলা চত্বরে জেলার সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেন। এ সময় মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকরা বিক্ষোভ করে এবং ‘একটা একটা সাংবাদিক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগানে হুমকি দেয়। এ ছাড়া ক্যাডাররা সাংবাদিকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। ওই দিন দুপুরেই সাংবাদিকরা একযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর দুই দিন পর পুলিশ আমলি আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে পাঁচজন সাংবাদিক ছাড়াও তিন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দিদারুল আলম ওরফে কসাই দিদার ও তাঁর ছেলে দেলোয়ারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বিভিন্নজনের সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন নাজিম ওরফে কালা নাজিম, আক্তার হোসেন, ফরিদ, মুসলিম, মিন্টু মিস্ত্রী, ফারুক ও উজ্জ্বল মারমা।

গত ১৯ ডিসেম্বর বালি উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে দিদারুল আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন ক্যাডার প্রথম আলোর সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে ধরে পৌরসভায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌর সচিবের কক্ষে মেয়র রফিকুল আলম নীরবকে পেটান।

মেয়রের বিরুদ্ধে পরোয়ানা : গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন জামিন শেষে আদালতে হাজির হওয়ার দিনেও অনুপস্থিত থাকায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালত মেয়র রফিকুল আলমসহ আট আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মেয়র রফিকুলের সমর্থক ফারুক, জামাল, হৃদয়, মিন্টু মিস্ত্রী, শামীম গাজি, শরীফ ও রাহুল।

আদালত পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম জানান, আসামিরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। কিন্তু গতকাল আদালতে হাজিরা না দিয়ে সময়ের আবেদন জানালে আদালত তা খারিজ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের কলেজ সড়কে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা নির্মলেন্দু চৌধুরী। পৌর মেয়র রফিকুল আলমের নেতৃত্বে ওই হামলায় চিহ্নিত ক্যাডাররা অংশ নেয় বলে জেলা আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে। ওই দিন রাতেই মেয়র ও তাঁর বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাময়িক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমসহ ৩৮ জনের নামে মামলা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইস উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় মেয়র রফিকুল আলমের করা মামলায় সব আসামির জামিন হয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য