kalerkantho


৪০০ কোটি টাকা নীরবে লুট!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গড়াই খনন প্রকল্পে নদের উৎসমুখে দুটি ফ্লো ডিভাইডার (পানিপ্রবাহ সহায়ক) নির্মাণের জন্যে ২৭০ কোটি টাকা ও দুটি গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সরেজমিনে গিয়ে দুটি ফ্লো ডিভাইডার ও দুটি গাইড বাঁধ নির্মাণের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাব অনুযায়ী, খননকাজে দুটি ড্রেজার কেনার জন্যে ২৩৪ কোটি টাকা, নদী খননে ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৩০ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭৫ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৭ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৮ কোটি টাকা, ২০১৪-১৭ অর্থবছরে আরো ২৬ কোটি টাকাসহ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৯১৯ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবোর এক কর্মকর্তা জানান, কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় খনন এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্ব্বয় কমিটির সভায় অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন ও অনিয়ম-লুটপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। সাবেক জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন খননকাজ পরিদর্শন করে অনিয়ম চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। এরপর মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শেখ আলতাফ আলী তদন্ত শেষে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে তাঁকে বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ আহম্মেদকেও প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু এরপর আর এসবের কোনো অগ্রগতি হয়নি।


মন্তব্য