kalerkantho


চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনের মৃত্যুদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় স্কুল ছাত্রী কণিকা রানী ঘোষকে (১৪) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলার একমাত্র আসামি আব্দুল মালেককে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অন্য তিন স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মালেককে ২৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিশু আদালতের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিয়াউর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। একই দিন হবিগঞ্জে চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র তৌকির হত্যা মামলায় পাঁচজন ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দণ্ডিত আব্দুল মালেক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ মে সকালে ধাইনগর গ্রামের লক্ষণ ঘোষের মেয়ে কণিকা রানীসহ চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে মহিপুর গ্রামের আব্দুল মালেক তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কণিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিন ছাত্রী হলো দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে তারিন আফরোজ (১৫), অরুণবাড়ি মহিপুর গ্রামের মো. তাজেমুল হকের মেয়ে তানজিমা আক্তার (১৪) ও বেহুলা গ্রামের মোকবুল হোসেনের মেয়ে মরিয়ম আক্তার। চারজনই মহিপুর এস এম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আব্দুল মালেককে আটক করে পুলিশে দেয়।

নিহত কণিকার মা অঞ্জলি রানী ওই দিন রাতে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুর রশিদ ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালত ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ওই রায় ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জ : গতকাল দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাফরোজা পারভীনের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো হবিগঞ্জ শহরের শ্যামলী এলাকার হিরাজ মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিন তুর্কি (১৮), নাতিরাবাদ এলাকার নানু মিয়ার ছেলে রনি (১৯), ইনাতাবাদ এলাকার ইদু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম (১৮) ও আব্দুল গফুরের ছেলে নিয়াজ (১৫) এবং নাতিরাবাদ এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (২০)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আটজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় দেওয়ার সময় আসামি নিয়াজ ও আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিল। তুর্কি, রনি ও সাদ্দাম পলাতক।

২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তৌকিরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তৌকিরের বাবা আব্দুল বারিক সদর থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। হবিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক বড়ুয়া দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

লক্ষ্মীপুর : আবদুল মান্নান হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. এ কে এম আবুল কাশেম এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলো রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামের মো. আজিজের ছেলে মো. আলাউদ্দিন, মো. ফয়সাল, রিয়াজ, নুর আলম ও আবদুল আজিজ। আলাউদ্দিন ও নুর আলম পলাতক। খালাস পাওয়া আসামিরা হলো সিরাজ, পারভিন, রিনা ও ফাতেমা।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর চরপাতা গ্রামের আবদুল মান্নানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।


মন্তব্য