kalerkantho


দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

অবৈধ ট্রলারে ‘জীবনবাজি’

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অবৈধ ট্রলারে ‘জীবনবাজি’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন নৌপথে চলাচল করছে যাত্রীবাহী তিন শতাধিক অবৈধ ট্রলার। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত এসব ট্রলারে দিনরাত মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করা হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি ব্যস্ততম নৌপথ। প্রতিদিন সেখানে ফেরি, লঞ্চসহ বড় বড় বিভিন্ন নৌযান সার্বক্ষণিক চলাচল করে। পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় না এনে ওই নৌপথে যাত্রীবোঝাই অনেক ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে চলন্ত ফেরি বা লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী ট্রলার উল্টে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের পাশাপাশি পদ্মা ও যমুনা নদীর রাজবাড়ীর অন্তার মোড়, মানিকগঞ্জের আরিচা, ঝিটকা, পাবনার নগরবাড়ী, কাজীরহাটসহ বিভিন্ন নৌপথে ছোট-বড় তিন শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলার দিনরাত অবাধে চলাচল করছে। এসব ট্রলারের কোনো নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) নেই। লঞ্চ ও ফেরির চেয়ে ট্রলারে যাত্রীভাড়া অনেক কম। এ কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি সাধারণ যাত্রী ট্রলারে নদী পারাপার হয়। এক ট্রলারের চালক (মাঝি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে নদীতে ট্রলার চালানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে মাঝিরা রাতের অন্ধকারে চোখের ধারণায় নৌপথে তাঁদের ট্রলার চালিয়ে যাচ্ছেন।

নৌপথে অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) ও নৌ পুলিশের। তবে স্থানীয় কিছু লোক বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে দীর্ঘদিন ধরে ওই নৌপথে অবৈধভাবে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল পরিচালনা করে আসছে। প্রতিদিন তারা যাত্রীবাহী ট্রলারের ট্রিপপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা নেয়। এ চাঁদার একটা অংশ বিআইডাব্লিউটিএ ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির লোকজনকে দিয়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করা হয়। এ কারণে নৌপথগুলোতে যাত্রীবাহী অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার যাত্রীবাহী এক ট্রলারের মালিক বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে তাঁদের কোনো চাঁদা দিতে হয় না। তবে পাটুরিয়া ঘাটে কোনো ট্রলার ভেড়ামাত্রই তাঁদের ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।

বিআইডাব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের পোর্ট অফিসার শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ নৌপথে চলাচলকারী ট্রলারগুলো অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে। এসব ট্রলার চলাচল বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশকে একাধিক চিঠি দিয়েছি। ’ অবৈধ ট্রলার চলাচলে বিআইডাব্লিউটিএর লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর পরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সামসুল আলম বলেন, ‘এলাকার নৌপথে অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধে বিআইডাব্লিউটিএর লিখিত কোনো কাগজ আমি পাইনি। এ কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। লিখিত অভিযোগ পেলে সব অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য