kalerkantho


চকরিয়ায় তিন হাজার মণ লবণ লুট

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৬০ একরের ছয়টি চিংড়িঘেরে আড়াই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা তিন হাজার মণ উত্পাদিত লবণসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে। গত সোমবার রাতে উপজেলার চিংড়িজোন রামপুর মৌজার চিলখালী এলাকার ৩৩০, ৩৩১, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৩৪ ও ৩৩৫ নম্বর ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সন্ত্রাসীরা বন্দুকের বাঁট দিয়ে ঘেরের দুই কর্মচারীকে পিটিয়ে আহত করে। তাঁরা হলেন কুতুবদিয়ার লেমশীখালীর আজগর আলীর ছেলে লুত্ফুর রহমান ও মহেশখালীর শাপলাপুর এলাকার নুর ছৈয়দের ছেলে আসহাব উদ্দিন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ঘেরের পরিচালক তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘেরের পরিচালক হারুণুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইঞ্জিনচালিত দুটি বোটে করে কমপক্ষে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদল ছয়টি ঘেরে হানা দেয়। এ সময় বাধা দিলে তারা বন্দুকের বাঁট দিয়ে ঘেরের দুই কর্মচারীকে আহত করে। এ অবস্থায় আশপাশের ঘের থেকে কর্মচারীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা ১০ থেকে ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরে তারা আনুমানিক তিন হাজার মণ উত্পাদিত লবণ, ঘেরের খামারবাড়ি থেকে চাল, আসবাবপত্রসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালপত্র লুট করে বোটে নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট করা লবণের দাম আনুমানিক ৯ লাখ টাকা। পালিয়ে যাওয়ার আগে সন্ত্রাসীরা ঘেরের স্লুইস গেট খুলে দিলে প্রায় ৪৫ একর মাঠে মজুদ থাকা লবণ জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। এতে আরো ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হারুণুর রশিদ দাবি করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনার জসীম উদ্দিন, ছরওয়ার ও বদরখালীর মগনামাপাড়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে এ তাণ্ডব ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘেরগুলো দখলের চেষ্টা করায় ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। এদিকে চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘চিংড়িঘেরে যত ঘটনা ঘটে সবই দখল-বেদখলের বিরোধ নিয়ে’।


মন্তব্য