kalerkantho


ঘাটাইল আওয়ামী লীগে নতুন মোড়

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঘাটাইল আওয়ামী লীগে নতুন মোড়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ তুহিন আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার এ স্বজন গত সোমবার বিকেলে দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ধারণা করা হচ্ছে, হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কারাগারে থাকায় ভবিষ্যতে এ ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর হাতেই স্থানীয় রাজনীতির ভার তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে তাঁর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া নিয়ে দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

গত সোমবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ তুহিন আব্দুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, নাহার আহমেদ প্রমুখ।

সূত্র মতে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে তুহিন আব্দুল্লাহ পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৬৮৪ ভোট। নৌকা প্রতীকে শহিদুল ইসলাম লেবু পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৫৩১ ভোট। আর নৌকার বিদ্রোহী হিসেবে আমানুর রহমান রানা ৯৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের জেলা শাখার সদস্য নজরুল ইসলাম খান সামু বলেন, ‘জানি না তুহিন আব্দুল্লাহ সাহেবকে দলে নিয়ে আওয়ামী লীগের কী লাভ হবে। ’ তুহিন আব্দুল্লাহকে ঘাটাইল আওয়ামী লীগের কাণ্ডারির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সামনে কী হবে তা বলতে পারব না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু এ ব্যাপারে বলেন, তুহিন আব্দুল্লাহকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া নেই। এতে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলও হবে না। তা ছাড়া তিনি দলে যোগদান করলে দল বেশি গতিশীল হবে এমনও নয়, দল এমনিতেই গতিশীল। দলে তার যোগদান নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুহিন আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। ঘাটাইল আওয়ামী লীগকে আরো গতিশীল করতে তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দলের কয়েকজন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে নেতৃত্ব দিতে টাকার দরকার। শহিদুল ইসলাম লেবু তেমন টাকা খরচ করেন না। অন্যদিকে আমানুর রহমান খান রানা কারাগারে রয়েছেন। তুহিন আব্দুল্লাহ বড় মাপের ব্যবসায়ী। তিনি দলের জন্য অর্থ খরচ করতে পারবেন। এ জন্যই হয়তো তাঁকে দলে নেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমান মারা যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন আমানুর রহমান খান। তখন আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবুর নির্বাচনী শেষ সভায় রানাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম। পরবর্তী সময়ে তাঁকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আমানুর রহমান খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এদিকে দলে যোগদান করা তুহিন আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার স্বজন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি খুন হন দলের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ। ওই ঘটনায় মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হন এমপি রানা। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছরের মার্চের শেষদিকে কেন্দ্র থেকে দলের নতুন কমিটি অনুমোদন পায়। তখন জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়েন রানা।

এদিকে ফারুক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তখন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘাটাইল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শহিদুল ইসলাম লেবু। অবশ্য এমপি রানার অনুসারীরাও এখনো বেশ সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে শহিদুল ইসলাম লেবুর অনুসারীদের চরম বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন কয়েকবার ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৈয়দ তুহিন আব্দুল্লাহ বলেন, ঘাটাইল আওয়ামী লীগ হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। এখানে কোনো ব্যক্তি নিজের মতো করে দল চালাতে পারবে না। শেখ হাসিনার নির্দেশমতো ঘাটাইলে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করা হবে।


মন্তব্য