kalerkantho


রাজকীয় প্রীতিভোজ

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজকীয় প্রীতিভোজ

এটি কোনো জনসভার ছবি নয়। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের রোয়াইর গ্রামে গতকাল আয়োজিত শীতকালীন প্রীতিভোজে আমন্ত্রিত অতিথিদের এমনই ছিল ঢল। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিমন্ত্রণ। এ জন্য ১৫০ মণ চালের ভাতের সঙ্গে ৮০ মণ গরু ও ১০ মণ খাসির মাংস, ৫০ মণ মাছ ভাজা, ৫০ মণ দই এবং ২০ মণ মিষ্টির আয়োজন।

এ আয়োজন করেছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হক জিয়া। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘শীতকালীন রাজকীয় উৎসব ও প্রীতিভোজ’ উপলক্ষে ছাপানো নিমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে নবান্নের শেষে চলছে শীতের জয়গান। ভোরে সূর্যের আলোয় হাসছে শিশির। বইছে হিমেল হাওয়া। মাঠে মাঠে সরষে ফুলের সমারোহ। সারা বাংলার ঘরে ঘরে খেজুর রসের পিঠাপুলির আয়োজন। প্রকৃতির এই মহাআয়োজনকে স্মরণ করতেই জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইর গ্রামে আয়োজন করা হয় শীতকালীন রাজকীয় উৎসব ও প্রীতিভোজ। ’ এই নিমন্ত্রণপত্র জেলার পাঁচটি উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার সাধারণ মানুষদের দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ একর জায়গাজুড়ে দাওয়াতি মানুষদের আপ্যায়িত করতে সাজানো হয়েছে প্যান্ডেল। চারদিকে ডেকোরেটরের কাপড় দিয়ে ঢাকা। প্যান্ডেল দুপুর ১টার মধ্যেই নিমন্ত্রিতদের পদভারে মুখরিত হয়। সুষ্ঠুভাবে মানুষদের আপ্যায়ন করতে নিয়োগ দেওয়া হয় দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবী। ছিল পুলিশি পাহারা। পুরো প্যান্ডেলে মাইক সেট করে সব মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়। রান্নাবান্নার জন্য বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা থেকে বাবুর্চি আনা হয় ১২০ জন। মাংস-ভাত দিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি অতিথিদের শীতের শুভেচ্ছা জানাতে তৈরি করা হয় হরেক রকমের পিঠাপুলির।

অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগরের মিম ডেকোরেটরের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি আব্দুর রহমান বলেন, ‘পুরো অনুষ্ঠানে ডেকোরেটরের সব সামগ্রী আমরাই সরবরাহ করেছি। রান্নার জন্য শুধু বড় সসপেন সরবরাহ করতে হয়েছে ২৫০টি। ’

পাশের আওয়ালগাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলী বলেন, ‘খাওয়ানোর জন্য সোমবার থেকে আমরা কাজ করছি। ’

মাছ ও মাংস রান্নার জন্য বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে আসা বাবুর্চি তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে ৫০টি চুলায় মাছ ও মাংস রান্না শুরু করি, যা মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে শেষ হয়। ’

আক্কেলপুর সদরের আব্দুল হাই বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় এই প্রথম। এ জন্য দাওয়াত পেলেও পুরো অনুষ্ঠান দেখার জন্যই এসেছি। খাবারদাবারের জন্য মাছ, মাংস, দই ও মিষ্টির যে আয়োজন করা হয়েছে, তাতে কমপক্ষে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। ’

আয়োজক জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘বাঙালির শীতকালীন কৃষ্টি-কালচার মনে রাখতে এলাকার মানুষের জন্য এই ডাল-ভাতের আয়োজন। অন্য কোনো উদ্দেশে নয়। ’

জিয়ার বড় ভাই (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত) এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমার ছোট ভাই জিয়ার আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে। যদি দল সমর্থন করে। ’

প্রীতিভোজ শেষে ফেরা জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘জিয়া নির্বাচন করতে চান, এটা ঠিক। তবে সে জন্য প্রীতিভোজ কোনো শোডাউন না। দল সমর্থন দিলে সে নির্বাচন করবে। ’

উল্লেখ্য, সর্বশেষ আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হয়েছে ২০১৪ সালে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কমল জয় লাভ করেন। ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি ক্ষমতা বুঝে পেয়েছেন। এ হিসেবে ২০১৯ সালে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল বলেন, ‘জিয়ার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি আমাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। পাঁচবিবিতে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারিনি। জিয়া ভাইস চেয়ারম্যানে দাঁড়াবেন বলে শুনেছি। ’

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ আয়োজনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য আমরা অনুষ্ঠানস্থল দেখভাল করছি। ’


মন্তব্য