kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশুলিয়ায় শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদ

ক্ষতিপূরণ, দোষীদের শাস্তি ও আইন পরিবর্তন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আশুলিয়ায় উইন্ডি অ্যাপারেলস কারখানায় শ্রমিক তাসলিমা আক্তার কেন মারা গেলেন, মালিকপক্ষের কাছে এর জবাব চেয়ে, দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আশুলিয়া শাখার উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিল্পাঞ্চলের জামগড়ায় ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নেতারা বলেন, নাটোর থেকে আসা শ্রমিক তাসলিমা আক্তার (২৪) এক বছর ধরে উইন্ডি অ্যাপারেলসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। পাঁচ বছর আগে তিনি মানিকগঞ্জের সুলতানকে বিয়ে করেন। সুমাইয়া নামে তাঁদের তিন বছরের একটি মেয়ে আছে। গত ১৩ অক্টোবর তাসলিমা কারখানায় প্রবেশের মুখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে কারখানায় চিকিৎসক দেখিয়ে ছুটি না দিয়ে ফের তাঁকে কাজে বসায় কর্তৃপক্ষ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ছুটি না দিয়ে তাঁকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। দুপুরে খাবারের সময় কারখানায় আবারও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে দুপুর দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বক্তারা দাবি করেন, অসুস্থ অবস্থায় তাসলিমার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টো কাজে বাধ্য করায় তাসলিমার মৃত্যু হয়েছে। যথাসময়ে সুচিকিৎসা ও বিশ্রামের সুযোগ পেলে তাঁর মৃত্যু হতো না। কর্তৃপক্ষের এই অবহেলা-অমনোযোগ প্রমাণ করে, শ্রমিকের জীবনের কোনো মূল্য নেই কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে এই মৃত্যুকে কেবল অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা বলা যায় না। এটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। এর দায় মালিক, সরকার ও বায়ারের ওপর বর্তায়।

নেতারা বলেন, মালিকপক্ষ তাসলিমার বেতন, ছুটি ও ইনস্যুরেন্সের টাকাসহ প্রায় চার লাখ টাকা তাসলিমার স্বামী সুলতান ও মেয়েকে দিয়েছে। কিন্তু এটা ক্ষতিপূরণ না। তাসলিমা বেঁচে থাকলে যে পরিমাণ আয় করতেন তার সঙ্গে অন্যান্য সুবিধা পাওনা ও মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করে একজীবনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণের আইনে কারখানায় শ্রমিক মারা গেলে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা আছে, যেটা কখনোই হতে পারে না। রানা প্লাজা ধসের পর বিশেষজ্ঞরা হাইকোর্টে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকপ্রতি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সুপারিশ করেন। অথচ এখনো আইন বদল হয়নি। শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের ধারা বদল ও শ্রমিকের একজীবনের সমান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেন তাঁরা। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার লিমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা গত বৃহস্পতিবার তাসলিমার বড় বোন নাসরিনের জামগড়ার বাসায় যান। তখন তাসলিমার মা খুরশীদা বেগম জানান, ৯ বছর আগে তাসলিমার বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারে দুর্যোগ নেমে আসে। পরিবারের হাল ধরতে তিনি বিদেশে যান শ্রমিক হিসেবে। তাসলিমারা তিন বোন গার্মেন্টে কাজ নেয়। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটে আসেন বৃহস্পতিবার। খুরশীদা বলেন, ‘যাদের কারণে আমার মেয়ে মারা গেল তাদের বিচার চাই। ’


মন্তব্য