kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অভিযোগ করায় যুবলীগ নেতার হাত-পা ভাঙলেন চেয়ারম্যান

নাটোর প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অভিযোগ করায় যুবলীগ নেতার হাত-পা ভাঙলেন চেয়ারম্যান

তায়জুল ইসলাম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক তায়জুল ইসলামকে পিটিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শওকত রানা লাবুর বিরুদ্ধে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে পেটানো হয়।

এ ঘটনায় গতকাল তায়জুল ইসলাম বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. সুরুজ, সেকেন্দার আলী, মো. দুলাল, ফরিদ হোসেন, মো. আবদুল হান্নান, আবদুল মোমীন, মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. বয়েন। তাঁদের মধ্যে মো. দুলাল ও ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে তায়জুলের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল নাজিরপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইউনিয়ন যুবলীগ।

সভায় বক্তরা বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু। এই অনিয়ম নিয়ে যুবলীগ নেতা তায়জুল ইসলামসহ ৯ জন বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৭৭ জন বিত্তশালীর নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। গত বুধবার লাবু নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা ডেকে অভিযোগকারী ৯ জনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার তায়জুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এ কারণে অন্য অভিযোগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তায়জুল ইসলাম জানান, নাজিরপুর বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানযোগে তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে দেলুর মোড়ে পৌঁছলে আসামিরা ভ্যানের গতিরোধ করে তাঁকে বেধড়ক পেটায়। পরে তাঁরা লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেয়। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কী কারণে হামলা হয়েছে তা তাঁর বোধগম্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁর নামে মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য