kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নড়াইলে র‌্যাফল ড্র ফের শুরু

ডিসিকে চাপ দিলেন কে?

নড়াইল প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোপ মাঠের হস্ত-বস্ত্র শিল্প মেলার র‌্যাফল ড্র বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার তা শুরু হয়েছে।

এর কারণ জিজ্ঞেস করলে নড়াইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ওপরের চাপ রয়েছে বলে জানান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেলায় অনুমতি ছাড়া র‌্যাফল ড্র চলছিল। অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় সচেতন জনগণ এটা বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু করে। শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে মর্মে ১৫ অক্টোবর মেলার আয়োজক কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে র‌্যাফল ড্র ও লটারি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনার পর লটারির টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার পুনরায় লটারি বিক্রি শুরু হলে জনমনে ফের অসন্তোষ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে র‌্যাফল ড্র বন্ধ করা হয়েছিল। পুনরায় পুলিশের সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়ায় ২০ অক্টোবর থেকে লটারি চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ’

এদিকে নতুন করে র‌্যাফল ড্র চালু হওয়ার পর থেকে নড়াইলের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। গতকাল শুক্রবার সকালে লটারি বন্ধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট এস এস মতিনের নেতৃত্বে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাসুদ হাসান, পৌর জাসদের সভাপতি শাহ আলমসহ ১৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল ডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শনিবারের মধ্যে লটারি বন্ধ না হলে রবিবার ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের সময়সীমা বেঁধে দেন নেতারা।

এ সময় ডিসি মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের দৈনিক লটারিতে জনগণের আর্থিক ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আন্তরিকভাবে চাই এটা বন্ধ হোক। কিন্তু ওপরের চাপের কারণে আবার আমাকে এটা চালুর অনুমতি দিতে হয়েছে। তবে পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে। ’ কার চাপ? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে ডিসি বলেন, ‘স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। এখানে বাইরের অনেকগুলো চাপ রয়েছে। ’

স্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মনিপুরী তাঁতী শিল্প ও জামদানি বেনারসি কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং গোপালগঞ্জ হ্যান্ডলুম অ্যাসোসিয়েশনের নামে এই মেলা চলছে। এর পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজক গোপালগঞ্জের জনৈক জুয়েল। যিনি এই র‌্যাফল ড্র করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা টুঙ্গিপাড়ার লোক। সারা দেশে থানা, পুলিশ, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সব মহলকে ম্যানেজ করেই মেলা আর র‌্যাফল ড্র চালাই। এতে তো কারো কোনো ক্ষতি হয় না। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এদের হাত এত লম্বা যে মন্ত্রীরা পর্যন্ত এই জুয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। ’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় র‌্যাফল ড্রয় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হতো। মাসব্যাপী টিকিট বিক্রি করে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ। এর পরপরই চুরি, পারিবারিক অশান্তি, ধার দেনাসহ নানা ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা বেড়েছিল। আগের মতো কেবল লাইনে লটারির সরাসরি সম্প্রচারও চলছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নড়াইলের সচেতন নাগরিকরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর কালের কণ্ঠের ১৯ পৃষ্ঠায় ‘নড়াইলে বাণিজ্য মেলার র‌্যাফল ড্র আন্দোলনের মুখে বন্ধ’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।


মন্তব্য