kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ

আ. লীগের পাঁচ মেম্বার যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ জন ওয়ার্ড সদস্যের (মেম্বার) মধ্যে পাঁচজন স্থানীয় যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালা। তাঁরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত।

এলাকায় জনপ্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পল্লীতে অবৈধ মাদকদ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

পুুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থিত। বর্তমান সেখানে প্রায় তিন হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। পল্লীতে বাড়িওয়ালা-বাড়িওয়ালির সংখ্যা ২৫৬ জন। পাশাপাশি রয়েছে শতাধিক অবৈধ মদের দোকান। হাত বাড়ালে সেখানে মেলে দেশি-বিদেশি মদ, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।

দৌলতদিয়া ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মজিদ ফকির। তিনি দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল হোসেন বাবু। তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ূব আলী খান (১)। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল জলিল ফকির। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী কৃষক লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক। ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. আইয়ূব আলী খান (২)। তিনি দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা সবাই পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালা।

৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলী খানের পল্লীর ভেতরে বিশাল একটি বাড়ি ও মদের দোকান রয়েছে। ১৫ কক্ষবিশিষ্ট ওই বাড়িতে তাঁর ১৩ জন ভাড়াটিয়া (যৌনকর্মী) রয়েছে। গত বুধবার রাতে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল গোপন খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১০০ লিটার দেশি মদ, ৩১ ক্যান বিয়ার ও সাত হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িওয়ালার সহযোগী মাদক বিক্রেতা জামাল পালিয়ে যান। তিনি (জামাল) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার সোহরাব চৌকিদারের (মৃত) ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ নভেম্বর আইয়ূবের বাড়ি থেকে ১৬৯০ ক্যান বিয়ার, ৮৫ লিটার দেশি মদ, ১২ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৭০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার হয়।

এদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. জলিল ফকির প্রায় ১৫ বছর আগে যৌনকর্মী ঝুমুর আক্তারকে বিয়ে করেন। তখন থেকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে বাড়ির আটটি কক্ষে ভাড়াটিয়া রেখে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার এক তরুণীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে ঝুমুরের বিরুদ্ধে। গত ৯ অক্টোবর রাতে ওই বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গোয়ালন্দের ইউএনও পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের মাদক ও নারী ব্যবসার আইনগত অধিকার নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নারী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনৈতিক ও লজ্জাজনক। ’


মন্তব্য