kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।

নানা ফন্দিফিকির

ভোট দেননি, নাম বাদ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নানা ফন্দিফিকির

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড বিতরণে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। যাঁরা চেয়ারম্যানকে ভোট দেননি, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রফুল্ল মণ্ডল ও সংরক্ষিত নারী সদস্য ঝর্ণা বেগম একটি তালিকা তৈরি করেন। ওই তালিকা তাঁরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মোড়লের কাছে দেন। কিন্তু বিগত নির্বাচনে চেয়ারম্যানকে ভোট না দেওয়ায় কামরুজ্জামান ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৭২ জনের তালিকা থেকে হতদরিদ্র ২৪ জনের নাম বাদ দেন। অন্যান্য ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও একইভাবে তালিকা পরিবর্তন করে নিজের লোকজনের নাম বসিয়েছেন চেয়ারম্যান। আর ট্যাগ অফিসার রফিকুল ইসলাম তাতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন করেছেন। নিয়মানুযায়ী প্রকাশ্যে মাইকিং করে এই তালিকা তৈরির কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম তালিকা থেকে দেখা গেছে, ১ নম্বরে রয়েছেন হতদরিদ্র অরুণ বিশ্বাস। তাঁর বাবার নাম ললিত বিশ্বাস, গ্রাম হরিখোলা। ২ নম্বরে রয়েছেন শ্রী জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাবার নাম দুলাল চন্দ্র মণ্ডল, গ্রাম হরিখোলা। কিন্তু চেয়ারম্যান তাঁদের নাম বাদ দিয়ে যথাক্রমে পঙ্কজ মণ্ডল ও সুধাংশর নাম বসিয়েছেন। নতুন করে যে ২৪ জনের নাম তালিকায় বসিয়েছেন, তাঁদের কারো কারো কাছ থেকে নিয়েছেন টাকা। আবার চাল দেওয়ার সময় ৩০ কেজির পরিবর্তে দিচ্ছেন ২৮ কেজি করে। নতুন তালিকায় নাম ও বাবার নাম বদলালেও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পরিবর্তন করা হয়নি।

এ ব্যাপারে নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘তালিকা তৈরিতে অনিয়ম করা হয়নি। এখানে ডিলার দুজন। তাঁরা একই বাজারে ব্যবসা করেন। তাঁদের নিয়ে প্রথমে একটু ঝামেলা হয়েছিল, পরে ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) এসে ওয়ার্ড ভাগ করে দেওয়ায় তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। ’

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নগরঘাটা ইউনিয়ন সভাপতি ও ট্যাগ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তালিকা নিয়ে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি আমার জানা নেই। ’ একই ওয়ার্ডের দুটি তালিকাতে তাঁর স্বাক্ষর আছে, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ‘খোঁজখবর নেওয়া হবে’ বলে জানান।

এদিকে, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে তালিকায় দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জালালপুর ইউনিয়নের তালিকায় এমন অন্তত ১৫০ জনের নাম রয়েছে, যাঁরা কার্ড পাওয়ার যোগ্য নন, ধনসম্পদের মালিক।

অন্যদিকে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে কার্ড বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যেনতেনভাবে তালিকা করে পরে সেই কার্ড বিক্রি করে দিয়েছেন ইউপি চেয়্যারম্যান। এ বিষয়ে তালা ইউএনও ফরিদ হোসেন বলেন, ‘সরুলিয়া ইউনিয়নের তিনজন কার্ডধারীর বিপক্ষে অভিযোগ পেয়েছি। এ ছাড়া জালালপুরে কিছু কার্ডধারীর বিপক্ষে অভিযোগ উঠেছিল, সেটা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

 

মন্তব্য