kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাহুবলে থানায় হামলা ভাঙচুর

ছাত্র-পুলিশ হাঙ্গামা, গুলি আহত ৩০, তদন্ত কমিটি

১৪ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



থানায় হামলার ঘটনার জের ধরে হবিগঞ্জের বাহুবলে বুধবার দুপুরে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৪ ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ৯০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১৮ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় ছাত্র, শিক্ষকসহ চারজনকে আটক করা হয়। এদিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় বাহুবল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, বাহুবল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীনের দুর্নীতির প্রতিবাদে বাহুবলের দীননাথ ইনস্টিটিউশন ও ছদরুল হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও বাহুবল মডেল থানার এসআই কাজী জিয়া উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এ সময় উত্তেজিত ছাত্ররা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর জুতা ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি সামাল দেন বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। তিনি উপস্থিত হয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্ররা স্কুলের দিকে যায়। স্কুলে ফিরে যাওয়ার পথে বাহুবল থানার সামনে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা থানার ভেতরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় তিন পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় ১৪ ছাত্র। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দীননাথ হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক অশোক দাস ও গোলাম মহিউদ্দিন, দশম শ্রেণির ছাত্র জাহাঙ্গীর এবং এক অভিভাবককে আটক করে। পরে বিকেল ৩টার দিকে আটক চারজনকে ছেমড় দেওয়া হয়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র এ ঘটনা তদন্তের জন্য সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৯০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। আটক চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন এই ঘেরাও : বাহুবল উপজেলার দীননাথ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির নেতারা জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়বিহীন উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাছাই কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তালিকায় বাহুবল উপজেলায় দীননাথ ইনস্টিটিউশন ও সাতকাপন মডেল হাই স্কুলের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন ঊর্ধ্বতন মহলে তদবির করে উপজেলার সীমান্তবর্তী পুটিজুরী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ প্রক্রিয়া দৃশ্যপটে নিয়ে আসেন। শিক্ষকরা আরো জানান, কয়েক দিন আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর উপজেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন পুটিজুরী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষে অযাচিত সাফাই দিয়ে প্রতিবেদন পাঠান। এ খবর জানার পর দীননাথ ইনস্টিটিউশনসহ উপজেলার অন্যান্য মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দীননাথ ইনস্টিটিউশন মডেল হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি অলিউর রহমান অলি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীনের ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিবাদে বুধবার সকালে  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও ও অবস্থান ধর্মঘট করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও একটি মহল এখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

চুনারুঘাটে স্কুলে হামলাকারীদের ছেড়ে দিয়েছে

পুলিশ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবরোধ

এদিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভাঙচুর এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলাকারীদের পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করেছে। বুধবার কলেজের প্রধান গেটে জেএসসি ও এসএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষা শেষে অষ্টম ও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এ বিক্ষোভ মিছিল ও চুনারুঘাট-আসামপাড়া সড়ক অবরোধ করে। শিক্ষার্থীরা অচিরেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায়। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।

চুনারুঘাট থানার ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। তাই রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ’


মন্তব্য