kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রেলপথে ফোনে বুঁদ মাসে গেল ১১ প্রাণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রেলপথে ফোনে বুঁদ মাসে গেল ১১ প্রাণ

মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন নেত্রকোনা সদরের কুমুরপুর গ্রামের সাচ্চু মিয়া। তিনি এ সময় মোবাইল ফোনে এমনই বুঁদ ছিলেন যে ট্রেন আসার শব্দও শুনতে পাননি।

তাতে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল তাঁর। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন এলাকার।

রেললাইনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে একটি ট্রেনের ছবি তুলতে গিয়ে বিপরীত দিকে থেকে আসা ট্রেনে কাটা পড়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছে তিন শিশু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘরে ঘটা মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আশুগঞ্জ রেলওয়ে সেকশনে ট্রেনে কাটা পড়ে এমনভাবে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাসে উল্লিখিত সেকশনে ট্রেনে কাটা পড়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ট্রেনের ছবি ওঠানোর খেসারত দিয়েছে পাঁচজন।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইল ফোনের কারণে ট্রেনে কাটা পড়া ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গত ১৬ অক্টোবর তিন শিশুর মৃত্যু। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলগেট এলাকায় ফোনে কথা বলতে গিয়ে নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের আক্তার হোসেন নামের এক যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। একই স্থানে একই কারণে ১ অক্টোবর মারা যান আরো এক যুবক।

এদিকে অন্যান্য কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে ১৯ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ এলাকায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার শামীম মিয়া ও ২০ সেপ্টেম্বর ভাতশালা এলাকায় আখাউড়ার দেবগ্রামের হাসান নামের দুই যুবক নিহত হন। এ ছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর, ১, ৪ ও ১৭ অক্টোবর আখাউড়া-আশুগঞ্জ রেলওয়ে সেকশনে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই নারী ও পুরুষের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে। পরে এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

ভাদুঘরের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শুভ নামের এক শিশু ওই এলাকায় খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে গত ১৬ অক্টোবর সকালে বাবার মোবাইল ফোন নিয়ে সঙ্গীসহ রেললাইনে যায়। এ সময় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা ট্রেনের ছবি তুলতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা সুরমা মেইল ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শুভ, মোনায়েম ও পারভেজ নিহত হয়।

সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া-আশুগঞ্জ রেলপথের বিভিন্ন জায়গা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিনোদন স্পট হয়ে উঠেছে। রয়েছে আট-দশটি লেভেল ক্রসিং, যেখানে গেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব স্থানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

আখাউড়া বাইপাস এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেলে এখানে শত শত প্রকৃতিপ্রেমীর আগমন ঘটে। ডাবল লাইনের জন্য যে নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে, এর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাসের সৌন্দর্য্য দেখতেই প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় জমায়। ট্রেন এলেই উত্সুক মানুষকে ছোটাছুটি কিংবা ছবি তোলায় ব্যস্ত হতে দেখা যায়। এ ছাড়া ভাদুঘর এলাকার ব্রিজের কাছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন রেলগেটের কাছে প্রতিনিয়ত রেললাইনের পাশে লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. আবদুস সাত্তার বলেন, ইদানীং মোবাইল ফোনে কথা বলা কিংবা ছবি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রেললাইনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বললে নানা কারণেই ট্রেনের দিকে খেয়াল থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।


মন্তব্য